শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০২১ ২২:৫৮

রঙ্গশালায় যেন রংতামাশা!

ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে নেপাল চ্যাম্পিয়ন

রঙ্গশালায় যেন রংতামাশা!

১৮ বছর। দেড় যুগে ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে কোনো শিরোপা নেই। ফুটবলার হিসেবে এটা আমারও ব্যর্থতা। এখন না হয় দলে নেই। দেড় যুগে আমিও তো জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছি। নেতৃত্ব দিয়েছি। ফুটবল ক্যারিয়ারে বড় প্রাপ্তিটা হচ্ছে জাতীয় দলে অধিনায়ক হওয়া। অথচ আমি বড় কোনো ট্রফি উপহার দিতে পারিনি। যাক অতীতে যাই ঘটুক না কেন, আমার প্রত্যাশা ছিল ফুটবলে নতুন পথের দেখা মিলবে। আর তা ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। নেপালে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্ট বড় কোনো মর্যাদাকর আসর নয় তবুও বাংলাদেশের কাছে অনেক বড় ছিল। এই ছোট শিরোপাটা জিতে বাংলাদেশ ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসুক এ প্রত্যাশা ছিল সবারই। অথচ শিরোপা অধরাই থেকে গেল।

টি-স্পোর্টসে ফাইনাল দেখেছি। বড় আশা করে টিভি পর্দায় চোখ ফেলে রেখেছিলাম। জামালের হাতে বিজয়ের ট্রফি উঠবে আর এ দৃশ্য দেখে উল্লাস করব। আরও কত কি ভাবনা। টুর্নামেন্টে কিরগিস্তান ও নেপালের বিপক্ষে যে দুটি ম্যাচ দেখেছিলাম। তাতে বাংলাদেশকেই শক্তিশালী মনে হয়েছে। অথচ ফাইনালে নেপালকে দেখলাম ভয়ঙ্কর রূপে। আর জামালদের বল নাড়াচাড়া দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ হেরে বসেছে। নেপালের মাটিতে নেপালকে হারানোটা সত্যিই কঠিন। আমি যখন খেলেছি তখন তা মাঠ থেকেই টের পেয়েছি। জানি না কে কি ভাববেন, আমি বলব নেপালের বিপক্ষে জাতীয় দল ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে প্রদর্শন করল ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে।

ব্যবধান ১-২। তারপরও বলব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই ছিল হতাশা। রঙ্গশালায় ফাইনালে কোচ জেমি ডে যেন রঙতামাশা করেছেন। খেলোয়াড়রা বলছিল স্বাধীনতার মাসে তারা দেশকে ট্রফি উপহার দিতে জান-প্রাণ দিয়ে লড়বে। আর জেমির মুখে ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করা। যা সামনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাজে লাগাব। একজন ইংলিশ কোচের মুখে এ কথা শুনে অবাকই হয়েছি। তিনি কিরগিজস্তান ও নেপালের বিপক্ষে পরীক্ষা করে ওমান, আফগানিস্তান ও ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়বেন। শিরোপা তো জেতা হলো না তাহলে কি তিনি পরীক্ষায় পাস করেছেন?

ফাইনালে বাংলাদেশের একাদশ দেখেই মনে ধাক্কা খেয়েছি। আরে বাবা এটাতো ফাইনাল, কোচের কি উচিত ছিল না দুই ম্যাচে যারা ভালো খেলেছে তাদেরকেই একাদশে জায়গা দেওয়া। অবাক হয়েছি যে সোহেল রানা প্রথম ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছে তাকে ম্যাচেই দেখাই গেল না। পরীক্ষিত ডিফেন্ডার বাদশাকেও একাদশে রাখা হয়নি। যারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ এলোমেলো করে দিতে পারে তারাও নেই। এসব দেখে মনে প্রশ্ন জাগছিল এটা ওয়ার্মআপ না ফাইনাল ম্যাচ।

বাংলাদেশের আক্রমণ বলতে মাহবুবুর রহমান সুফিলের গোল ও ইয়াসিন আরাফাতের একটি শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যাওয়া। এদেরকে আগে নামিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা তো করা যেত। জেমি নিজেই জানেন কেন তিনি করলেন না। কিন্তু দিন শেষে খেসারত দিতে হলো বাংলাদেশকে। এ দায়ভার নেবেন কে?


আপনার মন্তব্য