শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৪২

সুপার লিগ নিয়ে তোলপাড়

ক্রীড়া ডেস্ক

সুপার লিগ নিয়ে তোলপাড়

রবিবার রাতে রিয়াল মাদ্রিদের ফ্লোরেন্টিনো পিরেজ নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে গঠন করেছেন ইউরোপিয়ান সুপার লিগ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়াও আছে বার্সেলোনা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, লিভারপুল, ম্যানইউ, ম্যানসিটি, চেলসি, টটেনহ্যাম, আর্সেনাল, জুভেন্টাস এসি মিলান ও ইন্টার মিলান। আরও তিনটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘোষণার পরই তোলপাড় শুরু হয়েছে ফুটবলে। ফিফা, উয়েফা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা এর কঠোর সমালোচনা করেছেন।

সুপার লিগ আয়োজনের চেষ্টা বহুদিনের। ১৯৯৮ সালেই এমন এক লিগের প্রস্তাবনা এসেছিল। সে সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাবের সংখ্যা বাড়িয়ে চেষ্টাটা রুখে দিয়েছিল উয়েফা। গত কয়েক বছরে সুপার লিগ নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়। এর মূল বক্তব্য ছিল, বড় বড় ক্লাবগুলো পরস্পরের সঙ্গে ম্যাচ পাচ্ছে না চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। এতে সমর্থকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বড় বড় ম্যাচ সমর্থকদের উপহার দিতেই সুপার লিগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ১৫টি ক্লাব সরাসরি অংশ নিবে। বাকি পাঁচটি ক্লাব বাছাইপর্ব থেকে আসবে। মূল পর্বে ১০টি করে দল দুটি গ্রুপে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষে থাকা তিনটি করে মোট ছয়টি দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের ৪ ও ৫ নম্বরে থাকা দল প্লে-অফ খেলে কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য কোয়ালিফাই করবে। ইউরোপিয়ান শীর্ষ পাঁচ লিগের তিনটি লিগের (ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালি) ক্লাব সুপার লিগে অংশ নিলেও বাকি আছে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান ও বুন্দেসলিগার ক্লাব। বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজিকেও এই লিগে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন সুপার লিগের কর্তারা।

প্রতিবাদ

ইউরোপিয়ান সুপার লিগের বিরোধিতা করেছে ফিফা ও উয়েফাসহ ইউরোপের অনেক দেশের প্রধানমন্ত্রীরাও। এমনকি ক্লাবের সমর্থক এবং সাবেক ফুটবলাররাও এর বিরোধিতা করেছেন। লিভারপুলের সমর্থকরা ক্লাবের সামনে একটি ব্যানার টানিয়েছে যেখানে লেখা, লিভারপুলের সমর্থকরা সুপার লিগের বিরুদ্ধে। কড়া বক্তব্য দিয়েছেন ব্রিটেন ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। সারা জীবনের জন্য বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিফা। মেসুট অজিলদের মতো তারকারা বলেছেন, ‘বড় বড় ম্যাচ বছরে এক আধটা থাকলেই ভালো। বেশি হলে তার কদর থাকবে না। সুতরাং সুপার লিগের যৌক্তিকতা আমার কাছে নেই।’ এমন প্রতিবাদমুখর পরিবেশে সুপার লিগ মাঠে গড়াবে কি না তা বলা কঠিন।