বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে এবার নকআউট পর্বের মহালড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও অস্ট্রিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালের পথ সুগম করার এই ম্যাচে যে দল জিতবে, শেষ ষোলোতে তারা মুখোমুখি হবে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়ার। বাংলাদেশ সময় আজ রাতে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে মিশন শুরু করলেও স্পেনের যাত্রাটা খুব একটা চোখধাঁধানো ছিল না। কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু করার পর সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। তবে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, তার দল প্রতিনিয়ত নিজেদের ঘাটতিগুলো কাটিয়ে উঠছে এবং সঠিক পথেই রয়েছে। সমর্থকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি এবং তার দল যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে রালফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া। গ্রুপ পর্বে জর্ডানকে হারিয়ে, আর্জেন্টিনার কাছে হেরে এবং আলজেরিয়ার সাথে থ্রিলার ড্র করে রানার্স-আপ হিসেবে এই মঞ্চে এসেছে তারা। গ্রুপ পর্বে স্পেনের চেয়েও একটি গোল বেশি করেছে অস্ট্রিয়ানরা। তবে কোচ রাংনিক ভালো করেই জানেন যে, ২০২৩ সালের মার্চ থেকে টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্পেনের বিপক্ষে জিততে হলে তাদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে হবে।
এই ম্যাচের অন্যতম মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছেন স্পেনের ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা সাজাচ্ছে অস্ট্রিয়া। অস্ট্রিয়ান কোচ রাংনিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফুটবলপ্রেমী হিসেবে ইয়ামালের খেলা দেখতে ভালো লাগলেও, আজ মাঠে তাকে কোনো জায়গা দিতে চান না তারা। ইয়ামাল যেন বল পায়ে ড্রিবলিং করার সুযোগ না পান, সেটাই হবে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের প্রধান লক্ষ্য।
ইনজুরি সমস্যায় স্পেন শিবিরে কিছুটা ধাক্কা লেগেছে। কলারবোনের চোটের কারণে ইয়েরেমি পিনো এবং হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে নিকো উইলিয়ামস এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া শিবিরে কোনো ইনজুরি বা নিষেধাজ্ঞা নেই, যা কোচ রাংনিককে পূর্ণশক্তির দল নামানোর স্বস্তি দিচ্ছে। পরিসংখ্যান ও সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যৎবাণীতে স্পেন অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার কাছে হারের অতীত স্মৃতি স্প্যানিশদের কিছুটা হলেও সতর্ক রাখবে। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা শেষ ষোলোর টিকিট কাটে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ