শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০২০ ২২:২১

পদুয়ার বাজারে মাছের মেলা

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

পদুয়ার বাজারে মাছের মেলা

কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার। কুমিল্লা- নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের এই বাজারটির দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার। বাজারের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে নানা জাতের মাছের বাজার। রবি ও বৃহস্পতিবার বসে বাজার। এখানে দেশি কৈ, টাকি, শোল, টেংরা, চাষের রুই, কাতলা, মৃগেল, সমুদ্রের চাপিলা, লইট্যা, সুরমা, কোরাল, টুনা মাছও মিলে। যাতায়াত সহজ, দামও নাগালের মধ্যে। বর্ণিল সব তাজা মাছ পেয়ে খুশি ক্রেতারা।

শত বছরের পুরনো মাছ বাজারটি জমজমাট ৩০ বছর ধরে। প্রতিদিন ২৫০ দোকান বসে। দৈনিক বিক্রি হয় আড়াই কোটি টাকার বেশি মাছ। বেশি বিক্রি হয় রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, মৃগেল, গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, বিগহেড ও কমনকার্প। বাজারে ২০ শতাংশ ইলিশ, ১০ শতাংশ দেশি ও ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ। রুই, কাতলা, মৃগেল ও কার্প জাতীয় মাছগুলো আসে দাউদকান্দি, মেঘনা ও তিতাস উপজেলার প্লাবন ভূমি থেকে। ইলিশ আসে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে। সামুদ্রিক মাছের বেশিরভাগ আসে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে। এর মধ্যে রয়েছে চাপিলা, লইট্যা, সুরমা, কোরাল, টুনা, রূপচাঁদা, বাটা, বাইলা ও চিংড়ি। সামুদ্রিক কাঁকড়াও বিক্রি হয়। দেশি মাছ শিং, মাগুর, কৈ, টাকি, শোল, টেংরা, পাবদা, পুঁটি, কাঁচকি, বোয়াল, আইড়, বাইন ও গজার।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, তিন সারিতে বসেছে মাছ ব্যবসায়ীরা। তাজা বর্ণিল মাছ লাফাচ্ছে বিক্রেতার ঢালায়। বড় সাইজের মাছের পাশে বেশি ভিড়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর চারপাশ। কুমিল্লার শাকতলা, জাঙ্গালিয়া, কচুয়া চৌমুহনী, রাজাপাড়া, নেউরা, দিশাবন্দ, নোয়াগাঁও, মোস্তফাপুর, বেলতলি, কোটবাড়ি, সুয়াগাজী, মিয়াবাজার, চৌয়ারা, কালিকাপুর, লালমাই ও পিপুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার শৌখিন ক্রেতারা এখানে মাছ কিনতে আসেন। সড়কের পাশে গাড়ি রেখে মাছ কিনেন অনেকে। মাছ কাটতে ক্রেতাদের পেছনে ঘুরঘুর করছে অনেকে। মাছের পানি-কাদা এড়িয়ে চলা ক্রেতারা পছন্দের তাজা মাছটি কিনতে পেরে মুখে ফুটিয়ে তোলেন হাসির ঝিলিক। বিয়ে, জন্মদিনসহ বড় অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার ও জেলার অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো পাইকারি মাছ কিনে পদুয়ার বাজার থেকে।

দাউদকান্দির ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, তিনি বিক্রি করেন রুই-কাতলাসহ কার্প জাতীয় মাছ। দাউদকান্দির প্লাবনভূমি থেকে মাছ আনেন। প্রতিবাজারে দুই লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ব্যবসায়ী দিদার মিয়া জানান, ২০ বছর ধরে চাঁদপুর থেকে ইলিশ কিনে এ বাজারে বিক্রি করেন। প্রতিদিন গড়ে ৫৫-৬০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়। কুমিল্লার বরুড়ার জামাল হোসেন দেশি শিং ও চিংড়ি মাছ বিক্রি করেন। গড়ে তার ৪০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়।

বাজার কমিটির সভাপতি রোটারিয়ান আবদুল মালেক ভূঁইয়া বলেন, বাজারটি শত বছরের পুরনো। মাছ বাজারটি জমজমাট ৩০ বছর ধরে। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছ বাজারটি বসত। এখন ফোর লেনের কাজ চলায় কিছুটা সংকীর্ণ হয়েছে। এটি কুমিল্লার সর্ববৃহৎ মাছ বাজার।


আপনার মন্তব্য