শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ আগস্ট, ২০২১ ২২:৫৪

অরক্ষিত ফুটওভার ব্রিজে নিরাপত্তা ঝুঁকি

ব্রিজের ওপরের নিরাপত্তা রেলিংয়ের অনেক স্থানে ভেঙে, বাঁকা হয়ে গেছে। সিঁড়ির পলেস্তারা উঠে গেছে। অনেক ফুটওভার ব্রিজের ওপর কোনো ছাউনিও নেই

আকতারুজ্জামান

অরক্ষিত ফুটওভার ব্রিজে নিরাপত্তা ঝুঁকি
পরিচর্যার অভাবে অরক্ষিত রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজগুলো ঝুঁকি নিয়ে ব্যবহার করছে নগরবাসী। উত্তরার রাজলক্ষ্মী ফুটওভার ব্রিজের ছবি -রোহেত রাজীব
Google News

রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজগুলোর অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে। সংস্কার কার্যক্রম না থাকা, তদারকির অভাবসহ নানা কারণে দিনে দিনে অরক্ষিত হয়ে পড়ছে ব্রিজগুলো। অরক্ষিত এসব ফুটওভার ব্রিজে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন নগরবাসী। সম্প্রতি বিভিন্ন ফুটওভার ব্রিজ সরেজমিনে এমনই চিত্র মিলেছে।

এদিকে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) নির্মাণ কাজ এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা সংশোধন করে মহাখালী ও ফার্মগেট পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় ১৫টি ফুটওভার ব্রিজের উন্নয়ন, সংস্কার বন্ধ রয়েছে। কারণ, উড়ালসড়ক ও বিআরটি রুট সম্প্রসারণে ১৫টি ফ্লাইওভারই ভেঙে ফেলতে হবে। তাই ফুটওভার ব্রিজগুলোর সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন করে অর্থ অপচয় করতে চায় না ডিএনসিসি। যদিও নগরবাসী বলছেন, প্রতিটি ফুটওভার ব্রিজ সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে- ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেটে পুলিশ বুথ সংলগ্ম ফুটওভার ব্রিজের পাটাতনের অন্তত ১৫/২০ স্থানে ফুটো হয়ে গেছে। মরিচা ধরে ভেঙে যাচ্ছে সিঁড়িগুলোও। ওভারব্রিজে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। ওভারব্রিজগুলো দৃষ্টিনন্দন করতে ফুলের টব লাগানো হলেও সেগুলোও অযতেœ-অবহেলায় মারা যেতে বসেছে। অনেকক্ষেত্রে শুধু টবই রয়েছে, ফুলগাছের দেখা মেলেনি। গত রবিবার ভর দুপুরেও ওভারব্রিজের লাইটগুলো জ্বলতে দেখা গেছে। পথচারীরা অভিযোগ করেন, অনেকক্ষেত্রে দিনের বেলা লাইট জ্বলে আর রাতের বেলা বন্ধ থাকে। শরিফুল ইসলাম নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, সিটি করপোরেশনের যথাযথ তদারকি না থাকায় নগরবাসী কার্যকর সেবা পাচ্ছে না। বিজয়সরণি মোড়ে ফুটওভার ব্রিজে দেখা গেছে- টিনের ছাউনিগুলো ভেঙে, বাঁকা হয়ে ভিতরে বৃষ্টি পড়ার মতো সৃষ্টি হয়েছে।

নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেস) প্রকল্পের আওতায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে রাজধানীর বনানীতে কয়েক বছর আগে দৃষ্টিনন্দন ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হলেও অযতেœ সেগুলোতেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। রবিবার দেখা গেছে- ভাসমান পথশিশুরা ফুটওভারে দলবদ্ধ হয়ে পলিথিনে সলিউশন নিয়ে নেশা করছে। ওভারব্রিজের গোড়ায় পিলারের নিচে যেন ডাস্টবিনের তৈরি হয়েছে। টবের অনেক গাছ পরিচর্যার অভাবে মারা গেছে। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনের সামনের ফুটওভার ব্রিজটি অনেক পরিপাটি দেখা গেছে।

রাজধানীর এয়ারপোর্ট এলাকার ফুটওভার ব্রিজের অবস্থা আরও নাজুক। ব্রিজের ওপরের নিরাপত্তা রেলিংয়ের অনেক স্থানে ভেঙে, বাঁকা হয়ে গেছে। সিঁড়ির পলেস্তারা উঠে গেছে। অনেক ফুটওভারব্রিজের ওপর কোনো ছাউনিও নেই। রোদ বা বৃষ্টিতে এসব ফুটওভার মাড়ায় না মানুষ। আর প্রায় সব ফুটওভার ব্রিজের ওপরেই ভাসমান নানা দোকান বসে চলাচলের পথ সংকুচিত করে ফেলেছে। উত্তরার জসিমউদ্দিন এলাকায় অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে কোনো ছাউনি নেই। লাইট জ্বালানোর স্ট্যান্ড থাকলেও বেশিরভাগ লাইট নেই। তদারকি না থাকায় লাইট খুলে নিয়ে গেছে টোকাই বা ছিঁচকে চোরেরা। ফুটওভারে সারি সারি ভাসমান দোকান বসে পথচারী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। রাজধানীর আসাদগেটে ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় ফুটওভার ব্রিজগুলোতে চলাচলেও রাতে নিরাপত্তা সংকটে থাকেন পথচারীরা।

কারণ, রাত ১১টার পর থেকেই এসব ফুটওভার থাকে ভাসমান পতিতা আর হিজড়াদের দখলে। বেশিরভাগ ফুটওভারগুলোর এপাশ-ওপাশ ঢাকা পড়েছে বড় বড় ব্যানার আর ফেস্টুনে। আর এর আড়ালে ব্রিজগুলোতে সন্ধ্যার পরই অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে ভাসমান পতিতারা। আর এতে বিপাকে পড়ছেন পথচারীরা।