রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা

হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র

আলাউদ্দীন মাজিদ

হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রের ক্যামেরায় চোখ রাখা নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ

সাহিত্য এবং টিভি নাটকের মতো চলচ্চিত্রেও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আটটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সব চলচ্চিত্রেরই কাহিনী তার নিজের। চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনাও তিনি করেছেন। অধিকাংশ চলচ্চিত্রের গানও তারই লেখা।

হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় প্রথম সিনেমা মুক্তি পায় ‘আগুনের পরশমণি’ [১৯৯৪]। আসাদুজ্জামান নূর, আবুল হায়াত ও বিপাশা হায়াত অভিনীত ছবিটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত। ‘আগুনের পরশমণি’ সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালনাসহ আটটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। হুমায়ূন আহমেদ নিজেও কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা এবং প্রযোজক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান। এ ছবি মুক্তির ৬ বছর পর তিনি নির্মাণ করেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ [২০০০]। এ ছবিটিও ৭টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। চলচ্চিত্রটি একদিকে যেমন দারুণ ব্যবসা সফল হয় তেমনি চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের দৃষ্টিতে শিল্পসম্মত হিসেবে বিবেচিত হয়।  ২০০১ সালে মুক্তি পায় ‘দুই দুয়ারী’। রিয়াজ, মাহফুজ আহমেদ ও মেহের আফরোজ শাওন অভিনীত এ ছবিটিও ব্যবসা সফল হয়। এ চলচ্চিত্রের জন্য রিয়াজ ২০০০ সালের সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এবং এ ছবির ‘বর্ষার প্রথম দিনে’ গানটির জন্য সাবিনা ইয়াসমিন সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০০৩ সালে মুক্তি পায় ‘চন্দ্রকথা’। আসাদুজ্জামান নূর, আহমেদ রুবেল ও শাওন অভিনীত এ চলচ্চিত্রটিও ব্যবসা সফল হয় এবং সমালোচকদের প্রশংসা পায়। ২০০৪ সালে মুক্তি পায় ‘শ্যামল ছায়া’ চলচ্চিত্রটি। প্রথম ছবি ‘আগুনের পরশমণি’র পর আবার তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ফিরে আসেন এ ছবির মাধ্যমে। চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়।  ২০০৭ সালে মুক্তি পায় তার ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’।  ২০০৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেন ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রটি। ফেরদৌস, মিম, জাহিদ হাসান ও মেহের আফরোজ শাওন অভিনীত এ ছবিটিও ব্যবসা সফল ও দর্শকনন্দিত হয়। ছবিটি দুটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।

২০১২ সালে মুক্তি পায় হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় নির্মিত সর্বশেষ ছবি ‘ঘেটুপুত্র কমলা’। হুমায়ূন আহমেদ এ ছবির বিশেষ প্রদর্শনী উপলক্ষে শেষবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় ফেরেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ ছবিতেও হুমায়ূন আহমেদ বাজিমাত করেন। ছবিটির জন্য সেরা পরিচালকসহ ২০১২ সালের বেশ কয়েকটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেন তিনি।

১৯৯৪ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর তিনি গড়ে তোলেন প্রযোজনা সংস্থা নুহাশ চলচ্চিত্র। হুমায়ূন আহমেদ তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে। তার বহুল পঠিত ও জনপ্রিয় উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’ নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান নির্মাণ করেন ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ছবিটি। ১৯৯২ সালে এই ছবিটি মুক্তি পেয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রথম ছবিতে হুমায়ূন আহমেদ জিতে নেন শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শঙ্খনীল কারাগার ওই বছর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ডলি জহুর এবং শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক এমএ মজিদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর হুমায়ূন আহমেদের কাহিনী নিয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন ‘আবদার’ নামে একটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র। নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে মোট ৯টি ছবি নির্মাণ করেন স্বনামধন্য পরিচালকরা। ছবিগুলো হচ্ছে— মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত দূরত্ব ও প্রিয়তমেষু, শাহ আলম কিরণ পরিচালিত সাজঘর, আবু সাইয়ীদ পরিচালিত নিরন্তর, বেলাল আহমেদ পরিচালিত নন্দিত নরকে, তৌকীর আহমেদ পরিচালিত দারুচিনি দ্বীপ এবং মেহের আফরোজ শাওনের ‘কৃষ্ণপক্ষ’।

অস্কারে হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র : বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার অস্কারে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগের প্রতিযোগিতায় হুমায়ূন আহমেদের দুটি ছবি অংশগ্রহণ করে। ছবি দুটি হচ্ছে— ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘শ্যামল ছায়া’ [২০০৫] এবং আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ‘নিরন্তর’ [২০০৬]।