Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩০
জাহাজ নির্মাণে ৩০ ভাগ সাশ্রয়
বরিশালে দক্ষ হয়ে বিদেশ পাড়ি শ্রমিকদের
রাহাত খান, বরিশাল
জাহাজ নির্মাণে ৩০ ভাগ সাশ্রয়

বরিশালে গত ২৯ বছরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অন্তত ২০টি শিপইয়ার্ড। এতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।

এখানকার জাহাজ নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করে দক্ষ হয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। শ্রম-মজুরি কম হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় জাহাজ নির্মাণে ৩০ ভাগ সাশ্রয় হয় বরিশালে।

নদীমাতৃক বরিশালে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য চার বছর আগে নলছিটির দপদপিয়ায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে একটি কার্গো ভেসেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তিন বছর আগে শুরু হয় ১ হাজার ৪০০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ওই কার্গো ভেসেলের বাণিজ্যিক যাত্রা। এই কার্গো ভেসেলের সাফল্যে এক বছর আগে একই স্থানে শুরু হয় একটি বিশাল যাত্রীবাহী জাহাজ ও দুটি ওয়াটার বাস নির্মাণকাজ। নদীমাতৃক বরিশালের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য তিনতলাবিশিষ্ট প্রতিটি ওয়াটার বাসের চারদিকে করিডর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বাসে থাকছে ফ্রি ওয়াইফাই জোন। শ্রম মজুরি ও জমির ভাড়া তুলনামূলক কম বরিশালে। তাই ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত জাহাজের চেয়ে বরিশালে জাহাজ নির্মাণে প্রায় ২৫ ভাগ খরচ সাশ্রয় হয় বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বরিশালে জাহাজ নির্মাণে অমিত সম্ভাবনা দেখছেন এখানকার মানুষ। এর আগে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে যাত্রীবাহী এমভি কীর্তনখোলা-১। পরবর্তী সময়ে নগরীর বেলতলায় কীর্তনখোলার তীরে নির্মিত হয় ওই সময়ের অভ্যন্তরীণ রুটের সর্ববৃহত্ জাহাজ কীর্তনখোলা-২। দুই জাহাজের সাফল্যে তৃতীয় জাহাজ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। কীর্তনখোলা-১০ নামে তৃতীয় জাহাজটি আগামী ঈদে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরুর অপেক্ষায়। এটির নির্মাণকাজ শেষ হলে আরও চারটি পণ্যবাহী জাহাজ নির্মাণ করবে তারা। অনেক আগে ঢাকা থেকে শ্রমিক এনে বরিশালে জাহাজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করা বরিশালের শ্রমিকরা এখন অনেক দক্ষ। বাইরে থেকে শ্রমিক আনতে হয় না বলে বরিশালে দেশের যে কোনো স্থানের চেয়ে মজুরি কম। এ কারণে বরিশালে জাহাজ নির্মাণ করলে ৩০ ভাগ খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে নদীভাঙন ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে অপ্রতুল সড়কব্যবস্থা এ শিল্পের বিকাশে প্রধান অন্তরায় বলে জানান তারা। ১৯৮৮ সালে বরিশালে প্রথম জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ভিত গড়েছিল সুরভী শিপিং লাইনস। বরিশালে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের পথিকৃত্ সুরভী শিপিং লাইনসের পরিচালক রিয়াজ-উল কবির বলেন, বরিশালে এ ব্যবসার গোড়াপত্তন ছিল চ্যালেঞ্জিং। তখন দক্ষ কারিগর পাওয়া যেত না। ঢাকা থেকে শ্রমিকরা এসে কাজ করতে আগ্রহ দেখাতেন না। তাদের দেখাদেখি এখন বরিশালের শ্রমিক-কারিগররাও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। শ্রমিক-কারিগর সহজলভ্য হওয়ায় বরিশালে এখন অনেকেই জাহাজ নির্মাণ শিল্প গড়েছেন। বরিশালের বিভিন্ন ডকে কিছুদিন কাজ করে দক্ষতা অর্জনের পর এখন অনেক শ্রমিক-কারিগর মোটা বেতনে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। বরিশালে জাহাজ নির্মাণে সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি আছে প্রতিবন্ধকতা। এখানে আজও একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্কশপ গড়ে ওঠেনি। গিয়ারবক্স, প্রপেলর, শ্যাফট, এমনকি একটি নাট-বল্টু পর্যন্ত ঢাকার ওয়ার্কশপে তৈরি করতে হয়। এ ছাড়া পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ না থাকা, নদীভাঙন এবং নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য অপর্যাপ্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এ শিল্পের প্রধান অন্তরায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জের মতো বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোয় গ্যাসের সুবিধা নেই। এর ওপর লোডশেডিং কাজের গতি মন্থর করে দিচ্ছে। বরিশালে এই শিল্প সম্প্রসারণে কম সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা। গত ২৯ বছরে বরিশালে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অন্তত ২০টি শিপইয়ার্ড। এতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow