৩০ নভেম্বর, ২০২২ ১৬:৩০

আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণীরা

আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। তারা মনের আনন্দে ধান কাটার পর বাড়ির উঠানে, রাস্তার পাশে বা মাঠে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন। এবার ধানের ফলন দেখে মন খুশিতে ভরে উঠেছে কৃষকের। এদিকে এবারও আমনের ফলন ভাল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল প্রায় ৫৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে। আর ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন। তবে ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদনের পরিমাণ আরো বাড়বে।

বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির বিপরীতে ধান কাটা হয়েছে ৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমির, নাচোল উপজেলায় ২২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমির বিপরীতে ধান কাটা হয়েছে ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমির, গোমস্তাপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমির বিপরীতে ধান কাটা হয়েছে ৯ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমির, ভোলাহাট উপজেলায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমির বিপরীতে ধান কাটা হয়েছে ২ হাজার ৯২০ হেক্টর এবং শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমির বিপরীতে ধান কর্তন হয়েছে ২৭১ হেক্টর।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধান কাটা আর ঘরে তোলার দৃশ্য। বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের কালুপুর এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক ও ফারুকসহ কয়েকজন জানান, এবছর আমন ধানে তেমন রোগবালাই দেখা না দেয়ায় উৎপাদন ভালই হয়েছে। তবে জেলার বাইর থেকে শ্রমিক আনায় বাড়তি মজুরি দিতে হচ্ছে। তবে বর্তমানে ধানের দাম ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে এবং অনেকেই ধান চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছে।

কৃষক ফারুক হোসেন নামে অপর কৃষক জানান, আমন ধান ঘরে তুলতে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলন ভালো হওয়াসহ কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় এবার তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তার মতে, প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ২০/২২ মণ এবং বিঘা প্রতি জমিতে ধান চাষসহ অন্যান্য খরচ হয়েছে সাড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সেচ খরচ যেমন কম লেগেছে, তেমনি পোকা মাকড়ের উপদ্রব কম ছিল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান উৎপাদনে ব্যাহত হয়নি। বরং ধানের উৎপাদন বেড়েছে এবং ইতিমধ্যে ৬১ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকরা এবার ধানের দাম ভালো পাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

সর্বশেষ খবর