Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:৩০
আপডেট : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৪:৪০

'মাদক বেচে টাকা কড়ি, ঝুলবে গলায় ফাঁসির দড়ি'

চবিতে মাদক প্রতিরোধে সেমিনার

চবি প্রতিনিধি

'মাদক বেচে টাকা কড়ি, ঝুলবে গলায় ফাঁসির দড়ি'

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদ ও চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদ্রক দ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধে তরুণ প্রজম্মের সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক সেমিনার।

'মাদক নয় মৃত্যু নয়, মাদকমুক্ত জীবন চাই' এ স্লোগানে বুধবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদ অডিটোরিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, যারা মাদক সেবন করে তারা মানুষ থাকে না। তারা হয়ে যায় অমানুষ। তারা জন্মদাতা মা-বাবাকেও হত্যা করছে। কারণ মাদক সেবনের ফলে তারা বিক্রিত মস্তিষ্কের অধিকারী হয়ে যায়। আপনি যদি মনে করেন, আপনার ছেলে মাদক সেবন করছে না। কিন্তু আপনি জানেন আপনার প্রতিবেশির ছেলে সেবন করছে। আপনি তাকেও সচেতন করুন। না হয় আপনার ছেলে-মেয়েকেও এ রোগ থেকে বাঁচাতে পারবেন না। নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশিকেও সচেতন করুন। তাহলে একটি মাদক মুক্ত সমাজ ও দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সেমিনারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, তরুণ প্রজম্মই নতুন বিশ্ব গড়ার কারিগর। নতুনরাই এ দেশ পরিবর্তন করেছে। তাদের হাত ধরেই এ পরিবর্তন। তাই তরুণদের এ মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। আজকে মাদকদ্রব্য পরিচর্যায় বিশ্ববিদ্যালয়গগুলো পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশে এখন ৩৬ লক্ষ মাদক আসক্ত রয়েছে। এটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ মাদকের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। আমরা কখনোই মাদকের সাথে হার মানতে পারি না। 

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের ক্ষতিকর বিষয়গুলো আমরা তরুণদের মাঝে তুলে ধরছি। যাতে তারা সচেতন হয়। সরকারি ছাড়াও বেসরকারিভাবেও মাদক দ্রব্য নিয়ামক গড়ে তুলতে হবে। পুলিশ প্রশাসন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু সাধারণ জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে এ মাদক থেকে। মাদক আসক্ত হয়েছে ৭০% বন্ধু থেকে। বন্ধু নিবার্চনেও আমাদের সচেতন হতে হবে। 

চট্টগ্রাম বিভাগের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের এ সময়টা কাজে লাগাতে হবে। এটাই তাদের সোনালী সময়।  এ সময় যদি তারা নেশায় মত্ত থাকে তাহলে তাদের জীবন ধ্বংস। দেশের সকল উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে মাদক। একটা পরিবারে যদি একজন মাদক সেবনকারী থাকে তাহলে পুরো পরিবারই ধ্বংস। আমরা সবাই মিলে সচেতন হয়ে সুন্দর একটা দেশ গড়ব। এ আগ্রাসন থেকে আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে ধ্বংস অনিবার্য। সবাই মিলে কাজ করতে হবে। একজন আরেকজনের উপর কাজের ভার তুলে না দিয়ে সবাই মিলে কাজ করলেই এ আগ্রাসন থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদের সঞ্চালনায় ও আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ বি এম আবু নোমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক প্রফেসর ড. তৌহিদুল ইসলাম, সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট ড.বশির আহম্মেদ। প্রক্টর প্রফেসর আলী আজগর চৌধুরী, রেজিস্ট্রার এ কে এম নূর আহম, প্রধান প্রকৌশলী আবু সাঈদসহ আরও অনেকে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য