শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:০৫

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

নাঈম আবদুল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। কালো পতাকা উত্তোলন করেন ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন। 

পতাকা উত্তোলন শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। 

উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান-এর নেতৃত্বে এক শোকর‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ‘চির উন্নত মম শির’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা পরিষদ, বিভিন্ন অনুষদের ডীন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধানগণ, ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন। 

পরে প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বুদ্ধিজীবীরা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী, দেশপ্রেমিক, ন্যায়পরায়ণ, কুসংস্কারমুক্ত সচেতন নাগরিক। ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে তার অনুমান তারা আগে থেকেই করতে পারতেন। বুদ্ধিজীবীরা যেহেতু কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না, তাই শাসক বা সরকার তাদের অপকর্ম নির্বিঘ্নে করতে প্রথমে বুদ্ধিজীবীদের মন রক্ষা করার চেষ্টা করে, লোভ দেখায়, না পারলে অবশেষে মেরে ফেলে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বুদ্ধিজীবীদের উপর নির্যাতন ও হত্যা করার ঘটনা অনেক রয়েছে।’

সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘যেকোনো দেশের উন্নয়নে বুদ্ধিজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, ‘আপনারা দেশের সূর্য সন্তান, আপনারাই দেশের নেতৃত্ব দেবেন, বুদ্ধিজীবীদের সম্মান করুন, আপনারাও বুদ্ধিজীবী হোন।’ 

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের সকল শহীদ সদস্য, জাতীয় চার নেতা, শহীদ বুদ্ধিজীবী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে সভাপতি তার বক্তব্য শেষ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুব্রত কুমার দে এবং কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাহাবউদ্দিন। এছাড়া আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল আমিন, কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আহসানউল্লাহ রাসেল, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল হাসান রাকিব। 

স্বাগত বক্তব্য রাখেন- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সুজন আলী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। আলোচনায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কে এম মাহমুদুল হক। 

এদিকে, কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর
close