শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৪৭

১১ দফা দাবিতে হাবিপ্রবির ওরিয়েন্টেশনসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি

১১ দফা দাবিতে হাবিপ্রবির ওরিয়েন্টেশনসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ

হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) নিয়োগে অনিয়ম, ল্যাব-বাস সংকট, বিচারহীনতার ঘটনাসহ ১১ দফার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক, একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। 

অপরদিকে, আন্দোলনের চাপে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ওরিয়েনটেশনের অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে শত শত নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ওরিয়েনটেশনের জন্য ক্যাম্পাসে এসে ফিরে যায়।

ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের ১১ দফা এবং আরেক গ্রুপের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে সোমবার সকাল থেকে তালা ঝুলিয়ে এ আন্দোলন শুরু করে। এতে বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রশাসনিক এবং একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনও বন্ধ হয়ে যায়। 

তবে বিকল্পভাবে বিশ্ববিদ্যলয়ের কিছু কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান হাবিপ্রবি’র রেজিস্টার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক। এছাড়াও আন্দোলন নিরসনে দফায় দফায় চেষ্টা চালাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

অপরদিকে রিজেন্ট বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী পদোন্নতির দাবিতে সোমবার কর্মদিবসেও কলম বিরতিসহ অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। এক দফার ওই দাবিতে গত দেড়মাস ধরে অর্ধদিবস কলম বিরতি পালনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনের সিড়িতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন প্রায় শতাধিক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তবে নিয়ম মেনেই সমস্যার সমাধান চাইছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে ১০ জন কর্মকর্তা এবং ৪৯ জন কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েব সাইটে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘটনা প্রকাশের পর থেকেই আন্দোলনে নামে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

১১ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। ছাত্র নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আকিভ আলভী রাসেল, মির্জা ফয়সাল সৌরভ, পল্লব হোসেন রাঙ্গা, রাশেদুল ইসলাম রাহাত সহ আরও অনেকে। 

সার্বিক বিষয় নিয়ে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক জানান, ছাত্র নেতারা যে দাবিগুরি করেছেন সেগুলো যৌক্তিক কিন্তু চাইলে একবারে তা সমাধান করা সম্ভব নয়। যেগুলো দ্রুত সময়ে সমাধান করা সম্ভব সেগুলো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এসব বাধার মুখে ওরিয়েনটেশন বাতিল ঘোষণা করেছি। তবে যৌথভাবে ওরিয়েনটেশন না হলেও বিভাগ অনুযায়ী ওরিয়েনটেশন করা হবে।

তিনি জানান, সোমবার বিকালের মধ্যেই আন্দোলনকারীদের দাবী অনুযায়ী লাইবেরিয়ান পদে শিক্ষক প্রফেসর ড. রেজাউল করিমকে অপসারণ করে নতুন অন্যজনকে পদায়ন করা হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী আমিনুল ইসলামের ব্যাপারে আইনগত দিক এবং নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য