শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:২৫
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:২৮
প্রিন্ট করুন printer

মুশতাক হত্যার জন্য সরকার দায়ী: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

মুশতাক হত্যার জন্য সরকার দায়ী: জাফরুল্লাহ চৌধুরী
ফাইল ছবি

কারাগারে মৃত্যুবরণ করা লেখক মুশতাক আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ বলেছেন, সরকার, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সাথে যারা জড়িত তারা প্রত্যেকে এই হত্যার জন্য দায়ী।

শুক্রবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে লেখক মুশতাক আহমেদের গায়েবানা জানাজার পূর্বে এক সমাবেশে একথা বলেন তিনি। মুশতাক ‘হত্যার বিচার’ ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিলের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ। 

সমাবেশে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিচারপতিরা এই হত্যার বিচার যদি না করেন, তাহলে তারাও কিন্তু হত্যার সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন। ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এটা কোনোক্রমেই থাকতে দেওয়া যায় না। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড.আসিফ নজরুল বলেন, আমরা এই হত্যাকান্ডের জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টকে দায়ী করছি। অবশ্যই এটা একটা জঘন্যতম আইন। যারা গুম-খুন করে, জুডিশিয়াল কিলিং করে, রাতের আঁধারে ভোট করে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে যেই আইনের মাধ্যমে একজনকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে দিনের পর দিন জেলে রাখা যায়, তা অবশ্যই কালো আইন। 

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দীন খান, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রুশাদ ফরিদী, রাশেদ হোসেন, রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ প্রমুখ। 

সমাবেশের পর লেখক মুশতাকের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরেকটি সমাবেশে মিলিত হন তারা। 

শাহবাগে বিক্ষোভ 
কারাগারের ভিতরে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবিতে শুক্রবার শাহবাগে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। এর আগে, সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলটি শাহবাগ পার হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে ঘুরে আবারও শাহবাগে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশ চলাকালে মোড় দিয়ে যান চলাচলে প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি মশাল মিছিল ও সমাবেশ করে তারা। এছাড়াও আগামী সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও দিয়েছে তারা। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর