শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ১৮:২৪

ঝুঁকি থাকলেও করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত চট্টগ্রাম

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম:

ঝুঁকি থাকলেও করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত চট্টগ্রাম

দেশের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রামে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে আছে শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বর্তমানে চলমান অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন করোনা ভাইরাসের উৎস দেশ চীনের মানুষ। এসব কারণে করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে আছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। তবে এ ভাইরাস মোকাবিলায় চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।   

করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এর প্রধান লক্ষণ জ্বর। সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে।   

জানা যায়, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম বন্দর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে জেনারেল হাসপাতালে পাঁচটি আইসোলেশন বেড, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরে চারজন করে দু’টি মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। তাছাড়া চমেক হাসপাতালেও খোলা হয়েছে পাঁচটি আইসোলেশন বেড। চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জরুরি প্রয়োজনে চসিক জেনারেল হাসপাতাল, মেমন মাতৃসদন হাসপাতাল ও ওয়ার্ড স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাছাড়া বিমানবন্দরে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে চীন থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং (পরীক্ষা) করা হয়েছে।   

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমাদের সর্বোচ্চ  প্রস্তুতি রয়েছে। সমুদ্র ও বিমানবন্দরে দু’টি মেডিকেল টিম এবং চমেক হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০টি শয্যা। তবে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। একটু সচেতন হলেই এ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা যাবে।’

চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতাই এখন জরুরি। সচেতনতাই এ ভাইরাস প্রতিরোধের অন্যতম ব্যবস্থা। এ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করা, মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, গণপরিবহন ও ময়লা পোশাক এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ঘরে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়া, ডিম কিংবা  মাংস রান্নার সময় ভালো করে সিদ্ধ করা, নিয়মিত থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা পরিস্কার রাখতে হবে।’    

শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরওয়ার-ই-জামান বলেন, ‘চীন থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। তাছাড়া কানেকটিং ফ্লাইটের কোনো যাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ রয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা। চীন থেকে আসা যাত্রীদের বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানাতে ইমিগ্রেশনে বলা হয়েছে।’

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য