শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ২১:১৮

চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ফলের দাম

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ফলের দাম
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের প্রায় সবখানে লকডাউনের পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। রয়েছে প্রশাসনের কড়া নজরদারিও। এতে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বৃহৎ বিআরটিসি ফলমন্ডির পাইকারি বাজারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। 

গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারটিতে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে আমদানিকৃত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল মাল্টা, কমলা ও ক্যানুলার। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় থেকে অস্বাভাবিক বেড়েছে দেশীয় ফল লেবুর দামও। 

আর্ন্তজাতিক বাজারে বুকিং দর বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় বাজারেও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমদানিকৃত সব ফলের অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য আমদানিকারকদের। তবে এসব বাজারের একটি চক্র নানা কৌশলে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন কড়া নজরদারিতে রেখেছেন বলেও জানান প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা।

সাবেক কাউন্সিলর ও সংগঠক জামাল হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। ভিটামিন সি যুক্ত খাবার গ্রহণেও আগ্রহ বেড়েছে মানুষের। গত দুই-তিন সপ্তাহ থেকে প্রায় সব ধরনের অরেঞ্জের (মাল্টা, কমলা ও ক্যানুলা) দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ী একটি সিন্ডিকেট এসব দাম বাড়িয়ে নানা কৌশলে মাত্রাতিরিক্ত লাভও করতে পারে বলে জানান তিনি। একই কথা বললেন এনজিও কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামও।

পাইকারি বাজার থেকে কিনে খুচরা বিক্রেতা সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার কালাম বলেন, পাইকারি বাজারের প্রভাবে খুচরা বাজারে ফলের দাম প্রচুর বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হতো ৯০-১১০ টাকার মধ্যে। দুই সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বেড়ে একই মাল্টা কেজি প্রতি ১৩০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে প্রতি ডজন কমলা বিক্রি হতো ১৫০-১৮০ টাকায়। যা এখন ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কেনুলাসহ প্রায় সব ফলের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানান তিনি।  

ফলমন্ডির পাইকারি ব্যবসায়ী আলমগীরসহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, গত ১৫ দিন ধরে আপেলের বাজার অনেকটা স্থির। এতে আর্ন্তজাতিক বাজারে ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির ফলে আপেলের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক খান বলেন, করোনায় চাহিদা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অরেঞ্জ জাতীয় ফলের বুকিং দর আগের যেকোনো রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এতে দেশীয় বাজারে ফলের দাম বেড়েছে। গত কয়েক দিনে বন্দরে পণ্যের জট লেগে আছে। তাছাড়া আমদানি পণ্যের ডেলিভারি ব্যাহত হওয়ায় ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।   

সরেজমিনে জানা গেছে, বর্তমানে বিআরটিসি ফলমন্ডিতে পাইকারি পর্যায়ে মিশর থেকে আমদানিকৃত প্রতি কার্টন (১৫ কেজি) মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৭০০ টাকার মধ্যে। সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগের দিন পর্যন্ত বাজারে একই মানের মাল্টা বিক্রি হয়েছে মাত্র ১২০০-০১৩০০ টাকার মধ্যে। সেই হিসেবে প্রতি কার্টন মাল্টার দাম বেড়েছে কমপক্ষে ৪০০ টাকা। 

অন্যদিকে বর্তমানে ভারত থেকে কমলার আমদানি বন্ধ রয়েছে। বাজারে কমলা নেই বললেও চলে। এই সুযোগে পাকিস্তান থেকে কেনুলা আমদানি বৃদ্ধি করেছে আমদানিকারকরা। বাজারে আগের আমদানি হওয়া প্রতি ক্যারেট (কমলার আকারের উপর নির্ভর করে ২০-২৫ কেজি) কমলা বিক্রি হচ্ছে ২০০০-২২০০ টাকার মধ্যে। যা আগে ১৫০০-১৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। একই সময়ে বাজারে প্রতি ক্যারেট (১০ কেজি) ক্যানুলার দামও ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে বাজারে প্রতি ক্যারেট পাকিস্তানি ক্যানুলা বিক্রি হতো ১০০০ টাকার মধ্যে। গত এক সপ্তাহ ধরে একই ক্যানুলা ১৩০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে আপেলের দাম স্থির রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অরেঞ্জ জাতীয় ফল (মাল্টা, কমলা ও ক্যানুলা) আমদানি হয়েছে ৬৪ হাজার ১২৫ মেট্টিক টন। গত বছর একই সময়ে অরেঞ্জ আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৫ হাজার ৭৮৫ মেট্টিক টন। সেই হিসাবে, গত বছরের চেয়ে এবারে অরেঞ্জ আমদানি কমেছে প্রায় ১২ হাজার মেট্টিক টন।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য