শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:১৮
আপডেট : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ২২:৪৫

করোনা সংকটেও আইসিইউ-ভেন্টিলেটর বেড গুদামবন্দি!

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম

করোনা সংকটেও আইসিইউ-ভেন্টিলেটর বেড গুদামবন্দি!

করোনাভাইরাস চিকিৎসাসেবায় চট্টগ্রামে আইসিইউ-ভেন্টিলেটর বেডের সংকট আশংকা তীব্র। তা সত্ত্বেও তিন বছর ধরে গুদামবন্দি আছে সাড়ে ৪ কোটি টাকায় সরকারের কেনা ৮ ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ বেডসহ যাবতীয় সরঞ্জাম!

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সংযুক্ত তিনটি বেসরকারি হাসপাতালসহ মাত্র ৬টি ভেন্টিলেটর, ২৪টি আইসিআইসি বেড আছে। 

চট্টগ্রামের দুই করোনা চিকিৎসাস্থল হল-আন্দরকিল্লাসহ জেনারেল হাসপাতাল ও ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি। এই দুটি স্থানে আইসিইউ’র সুযোগ সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায় প্রাথমিকভাবে বেসরকারি হাসপাতালের ২৪ টি আইসিইউ কাজে লাগানো, ৪ ধাপে চট্টগ্রামের ১২টি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ বেড ব্যবহার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি করোনা ব্যবস্থাপনা কমিটি। এর বাইরে সরকার ঘোষিত ১০টি ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ শয্যা বরাদ্দ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

এদিকে ভুক্তভোগীরা জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালেই মুমূর্ষু রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যাপ্রাপ্তি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া! পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের রোগীর চাপ আছে সেখানে। তাই জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালু করা গেলে চট্টগ্রামবাসী কিছুটা হলেও সেবা পেতেন।সেই উদ্যোগটি নেয়া হলেও দুর্নীতির অভিযোগে আটকা পড়ে যায়।

অনুসন্ধান প্রকাশ, হাসপাতালটির আইসিইউ সরঞ্জাম কেনা নিয়ে দুদকে মামলা হয়। এমামলায় স্বাস্থ্য খাতের অন্দরে দুর্নীতির পাল্টাপাল্টি ঘোড়ার দৌড়ে অন্যদের সাথে মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুলকে অভিযুক্ত করার প্রতিবাদে জনরোষও তৈরি হয়। সেবা নিয়ে স্বপ্ন পূরণ আর হয়নি।‌ মামলাটিতে এসব যন্ত্রপাতি হাসপাতালে ব্যবহার করা যাবে না-এমন কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ৩ বছর ধরেই যন্ত্রপাতিগুলো পড়ে আছে। শুরুতে মন্ত্রণালয় এ যন্ত্রপাতি গ্রহণ করা যাবে না মর্মে পত্র দিলেও পরবর্তীতে আদালতের আদেশে এগুলো গ্রহণ করা হয়। সুতরাং গুদামে ফেলে না রেখে যন্ত্রপাতি দিয়ে হাসপাতালটিতে একটি আইসিইউ ইউনিট চালু করা যেতো। আর তা হলে করোনার এই প্রাথমিক পর্যায়েই আইসিইউ স্বল্পতা নিয়ে হাহাকার করতে হত না। এসব এভাবে পড়ে থাকার বিষয়টি অপ্রকাশ্যে ঠিকাদারির সাথে যুক্ত চিকিৎসক নেতারাসহ স্বাস্থ্য প্রশাসনের অনেকেই জানতেন। কিন্তু সংকট শঙ্কার মধ্যে গত একমাসেও কেউ এসব ব্যবহারে তাগাদা বোধ করেননি।

করোনায় মাঠে কাজ করতে নেমে গুদামে মূল্যবান বেড-ভেন্টিলেটর অব্যবহৃত থাকার বিষয়টি উদ্ঘাটন করেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান। 

তিনি জানান, 'সিদ্ধান্ত নিলেই অনাদরে পড়ে থাকা ভেন্টিলেটর-বেডসহ নতুন ১০টি, অর্থাৎ ১৮টি বেড যন্ত্রপাতি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই চালু আইসিইউ ইউনিট গড়ে তোলা সম্ভব। উদ্যোগটাই নিতে হবে।'

জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, ১৫ দিনের মধ্যেই নতুন আসা ১০ আইসিইউ বেড সংযুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে পড়ে থাকা আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটর সংযুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

আইসিইউ যন্ত্রপাতিগুলো পড়ে থাকার নেপথ্যে কারা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন'-মনে করছেন চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকগণ। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য