শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ জুন, ২০২১ ১৯:৫১
প্রিন্ট করুন printer

অন্যের হয়ে কারাভোগ, ৩ বছর পর মুক্তি পেলেন সেই মিনু

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

অন্যের হয়ে কারাভোগ, ৩ বছর পর মুক্তি পেলেন সেই মিনু
কারামুক্তির পর আইনজীবী ও স্বজনদের সঙ্গে মিনু আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
Google News

নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তার কুলসুমী নামে এক নারীর পরিবর্তে মিনু নামে আরেক নারী কারাভোগ করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পেয়ে বিনা অপরাধে সাজাভোগের প্রায় তিন বছর পর মুক্তি পেয়েছেন সেই মিনু।

বুধবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এর আগে একই দিন দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত মিনুকে মুক্তির আদেশ দেন এবং এ আদেশ কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আদালতের পেশকার মো. ওমর ফুয়াদ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আদালতের মুক্তি আদেশ পাওয়ার পর সকল বিষয় যাছাই-বাছাই করে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে মিনুকে। এতে মিনুর ভাইসহ আরো বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, মিনুর বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতে মিনুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তার কুলসুমী নামে এক নারীর পরিবর্তে মিনু কারাভোগ করছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের জুলাই মাসে নগরের কোতোয়ালী থানার রহমতগঞ্জের একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলা নিয়ে গার্মেন্টসকর্মী কহিনূর আক্তারকে গলাটিপে হত্যার ঘটনা ঘটে। এরপর মরদেহটি একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কিন্তু কহিনূর আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন অপরাধী কুলসুম আক্তার কুলসুমী।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে কহিনূরকে হত্যা করা হয় বলে প্রতিবেদন দেন। এতে আসামি করা হয় কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে আদালত কহিনূর আক্তার হত্যা মামলায় আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে সাজার পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলি মিনু ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর