১৩ আগস্ট, ২০২২ ২০:০১

অসর্তকতায় ঘটছে ট্রেন দুর্ঘটনা, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

অসর্তকতায় ঘটছে ট্রেন দুর্ঘটনা, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

ফাইল ছবি

রেললাইন দিয়ে আন মনে হেঁটে যাওয়া, কানে হেড ফোন দিয়ে কথা বলা, সিগন্যাল না মেনে দ্রুত গাড়ি চালানোসহ নানা অসর্তকতার কারণেই ট্রেন দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। রেললাইনের আশ-পাশে সবসময় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও এসব আইনের তোয়াক্কাই করেন না মানুষ। 

সর্বশেষ গত বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বারবকুন্ড স্টেশনে ট্রেন লাইন পার হওয়ার সময় ইঞ্জিনের সঙ্গে কাপড় আটকে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত এক মাসে শুধুমাত্র চট্টগ্রামেই মৃত্যু হয়েছেন ১৫ জনের। এর আগেও একাধিক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতামূলক নানান ধরনের প্রচার-প্রচারণাসহ আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় ও রেল প্রশাসন। এরই মধ্যে রেলমন্ত্রীসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) বারবার আশ-পাশের সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সচেতনামূলক মাইকিং, ব্যানার, পোস্টার এবং রিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবারও সীতাকুন্ডের সলিমপুর এলাকায় আরএনবি ও জিআরপি পুলিশ মাইকিং করেছে বলে জানান দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, প্রায় সময় অসর্তকতার কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা হয়ে আসছে। এই ঘটনায় কেউ মারা যাচ্ছেন, কেউ আহত হয়ে পঙ্গু হচ্ছেন আবার কেউবা ট্রেনে কাটা পড়ে দুই টুকরা হয়ে যাচ্ছেন। রেললাইনের উপর উঠে মুঠোফোনে কথা বলা, সময় বাঁচাতে রেললাইনের উপর দিয়ে দ্রুত পারাপার হওয়া, কানে হেড ফোন দিয়ে রেললাইনে বসে আড্ডা দেয়া, সিগন্যাল অমান্য করা, সিগন্যালে দায়িত্বশীল লোক না থাকাসহ নানা কারণেই প্রায় সময়ই ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী বলেন, শুধুমাত্র ট্রেন দুর্ঘটনা নয়, সকল বিষয়ে রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তাদের নির্দেশনা রয়েছে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সবসময় সচেতন থাকার জন্য। রেললাইনে সবসময় ১৪৪ ধারা জারি থাকলে প্রায় সময় দেখা যায়, হেড ফোন কানে দিয়ে কথা বলা, আড্ডা দেয়াসহ আরো অনেক কিছুই। এসব নিয়ে সচেতনতার জন্য রেল প্রশাসন ঝুঁকি এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা, রিফলেট বিতরণ, রেললাইনের আশ-পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও সচেতন করাসহ নানা কর্মসূচি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে দুর্ঘটনাসহ নানা বিষয়ে রেল প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাছাড়া গাড়ি চালকসহ আমাদেরকে স্ব-ইচ্ছায় সচেতন হতে হবে। এতেই আমাদের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান তিনি। 

একই কথা বললেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. জাহাঙ্গীর আলমও।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান জহিরুল ইসলাম বলেন, আরএনবি সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য মাঠে রয়েছে। প্রতিনিয়ত এসব প্রচারণায় কাজ করছেন সদস্যরা। এরপরও নিজেরাই সচেতন হতে হবে। ট্রেন যাত্রীসহ সকলকেই প্রতিনিয়ত সর্তক করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জিআরপি ওসি নাজিম উদ্দিন বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনা মানেই অসর্তকতা। এই কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। কিছু দিন আগেই মিরসরাইয়ে বড় ধরনের একটি দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটাও অসর্তকতার কারণে ঘটেছে। সচেতনতামূলক প্রায় সময় মাইকিং করা হয়, আজ শনিবারও সীতাকুন্ডে সচেতনতামূলক প্রচারণা করা হয়েছে। আমরা স্ব স্ব স্থান থেকে সর্তক হলে আশা করি এমন ঘটনা ঘটবে না বলে জানান তিনি।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নানা অসর্তকতার কারণেই ট্রেন দুর্ঘটনা থেমে নেই। এরই মধ্যে গত বুধবার সীতাকুন্ডে কাপড়ের সঙ্গে আটকে গিয়ে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। এর আগে মিরসরাইয়ে চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের ধাক্কা লেগে এক সঙ্গে ১১ জন তরুণের মৃত্যু ঘটেছে। একই ঘটনায় আহত আরো দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। একই দিন কানে হেড ফোন দিয়ে নগরীর পাহাড়তলী এলাকায়ও রেললাইন পার হওয়ার সময় নিজের অজান্তে চলন্ত ট্রেন এসে একজন যুবক মুহূর্তেই দুই টুকরা হয়ে পড়ে। সচেতনতার জন্য বিভিন্ন রকমের প্রচারণা করা হলেও এভাবেই ট্রেনে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

সর্বশেষ খবর