শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:১৬

বাগেরহাটে বাহারি পিঠার উৎসব

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

বাগেরহাটে বাহারি পিঠার উৎসব
উদ্বোধনকালে ইউএনও মোস্তফা শাহিনসহ অন্যরা

পিঠা, পায়েস দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন গ্রাম-বাংলার বহুকালের পুরনো রীতি হলেও এখন আর তেমনটা চোখে পড়ে না। একান্নবর্তী বাঙালি পরিবারের চিরায়ত এই ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্ত। আধুনিক যুগের এই ব্যস্ত সময়ে এসবে সময়ও দিতে চায় না মানুষ। আবার অতি আধুনিকতার আগ্রাসনে পিঠা কি? তাও চেনে না বর্তমান প্রজন্মের অনেকে। চর্চা না থাকায় পুরনোরাও ভুলতে বসেছে বাঙালি পিঠার সাদ-নাম-গন্ধ। 

তাই বাঙালির সেই পিঠাপুলির ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যতিক্রমী এক পিঠা উৎসবের আয়োজন করে বাগেরহাটের শরণখোলা সরকারি কলেজ। মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে ১৪টি স্টলে শোভিত হয় হরেক রকম পিঠা, পায়েস। সকাল থেকে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে তৈরি হয় বাঙালি আবহ। ম ম গন্ধে ফুটে ওঠে বাঙালিয়ানা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে এই পিঠা উৎসবে। জমজমাট বিক্রিও হয় স্টলগুলোতে। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই পিঠা আয়োজনে শত শত দর্শনার্থী ও ক্রেতার ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আয়োজকদের। 

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন। এসময় অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল এম মনিরুজ্জামান, শরণখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেন লিটন প্রমুখ।
 
আগতরা জানান, শাহী পাটিসাপটা, পুলি, দুধ চিতই, পায়েস, লবঙ্গ লতিকা, জামাই রাজা, গোলাপ পিঠা, চালতা ফুল, হৃদয় হরণসহ গ্রামীণ ও শহুরে মিলে ২৫ থেতে ৩০ পদের পিঠাপুলি দিয়ে স্টলগুলো সাজানো হয়। এছাড়া শাহী পান ও বিভিন্ন ধরনের চাটনিও ছিল। পিঠার এতো চাহিদা হবে তা আগে বুঝতে পারেনি আয়োজকরা। দুপুরের মধ্যেই স্টলগুলো খালি হয়ে গেছে। 

কলেজের অধ্যক্ষ মো. নূরুল আলম ফকির বলেন, মূলত বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সারা রাত জেগে নানান পদের পিঠার সমারোহ তৈরি করেছেন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। প্রথমবার এই আয়োজনে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসেছে। পিঠা কেনার পাশাপাশি অনেক আনন্দ উপভোগ করেছে সবাই। কলেজের পক্ষ হতে প্রতিবছর এই পিঠা উৎসব করা হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বাঙালি কালচার ধরে রাখতে পিঠা উৎসব একটি ভালো উদ্যোগ। পাশাপাশি গ্রাম-বাংলার আরো যেসব উৎসব আছে সবই আমাদের পালন করা উচিৎ। এ আয়োজনের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য