শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:০৩
প্রিন্ট করুন printer

চার ট্রাক মেয়াদোত্তীর্ণ কিট ও রি-এজেন্ট জব্দ, মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৯

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হতো

নিজস্ব প্রতিবেদক

চার ট্রাক মেয়াদোত্তীর্ণ কিট ও রি-এজেন্ট জব্দ, মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৯

করোনা শনাক্তের টেস্টিং কিট, রি-এজেন্ট কিংবা প্রেগন্যান্সি টেস্টিং কিট। বেশীরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। আবার কিছু সামগ্রীর মেয়াদ খুব শিগগিরই শেষ হবে। তবে সবকিছুই  জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন করে মেয়াদ বাড়িয়ে বিক্রি করছিল ওরা। 

কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলা দিয়ে আমদানি করছিল অনুমোদনহীন মেডিকেল ডিভাইস। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অনুমোদনহীন ডিভাইস, কিট এবং রি-এজেন্টগুলো শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছিল। 

সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় না হওয়ায় অবর্ণণীয় ভোগান্তিতে ছিলেন সাধারণ মানুষ। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোডের বায়োল্যাব ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে হাতে নাতে সাতজনকে গ্রেফতারসহ বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ টেস্টিং কিটসহ নানা উপকরণ জব্দ করে র‌্যাব। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বনানী এলাকার এক্সন টেকনোলজিস্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লি. এবং হাইটেক হেলথ কেয়ার লি. এর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অনেকটা একই রকম  অনুমোদনহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ মেডিকেল সরঞ্জামাদি জব্দ করে র‌্যাব। 

আজ শুক্রবার রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় র‌্যাব-২ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার। তিনি বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানের ৯ জনকে গ্রেফতারসহ চার ট্রাক অনুমোদনহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ মেডিকেল সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।  

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বায়োল্যাব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী শামীম মোল্লা (৪০), ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম (৪২), প্রধান প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল বাকী ছাব্বির (২৪), অফিস সহকারী জিয়াউর রহমান (৩৫), হিসাবরক্ষক সুমন (৩৫), অফিস ক্লার্ক ও মার্কেটিং অফিসার জাহিদুল আমিন পুলক (২৭), সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা (২৮), এক্সন টেকনোলজিস্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের এমডি মাহমুদুল হাসান (৪০), হাইটেক হেলথ কেয়ার লিমিটেডের এমডি এস এম মোজফা কামাল (৪৮)।

র‌্যাব জানিয়েছে, নকল টেস্ট কিটগুলো সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করতো চক্রটি। এছাড়া তাদের কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটও পাওয়া গেছে।

লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীন মেডিকেল ডিভাইস আমদানি, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ করোনার টেস্টিং কিট ও রি-এজেন্টসহ অন্যান্য রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন রোগের টেস্টিং কিট ও রি-এজেন্ট মজুত এবং বাজারজাত করছে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া ও বনানীতে টানা অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩টি প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউজে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর প্রতিনিধির সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, আভিযানিক দল দেখতে পায়, প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিশেষ ধরনের প্রিন্টিং মেশিনের সাহায্যে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার খুব অল্প সময় রয়েছে, এইরূপ বিভিন্ন টেস্ট কিট ও রি-এজেন্টসমূহের মেয়াদ বাড়ানোর কাজ চলছে। পরবর্তীতে তাদের ওয়্যারহাউজগুলোতে তল্লাশীকালে আভিযানকারী দলের সামনে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সেখানে মজুদকৃত বেশির ভাগ মেডিকেল ডিভাইস অননুমোদিত, প্রায় সকল প্রকার টেস্ট কিট এবং রি-এজেন্টসমূহের ব্যবহারের মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ হবে। 

এরা কোভিড-১৯ এর টেস্টিং কিটের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট এবং রি-এজেন্টও তারা নিয়মিতভাবে সরবরাহ করে আসছিল, যেমন- জন্ডিস, ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া, করোনা, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগসহ অন্যান্য প্যাথলোজিক্যাল টেস্টের জন্য যে সকল কিট ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এমন কি ‘এইডস’ রোগ নির্ণয়ের জন্য নির্ধারিত প্যাথলোজিক্যাল টেস্ট কিট ও রি-এজেন্টও রয়েছে এই তালিকায়, যা তাদের সংরক্ষণে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়। 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত

এই বিভাগের আরও খবর