শিরোনাম
৩ অক্টোবর, ২০২১ ১৫:৩২

রংপুরে এখনো ৫০ শতাংশ আলু হিমাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরে এখনো ৫০ শতাংশ আলু হিমাগারে

ফাইল ছবি

রংপুরের হিমাগারগুলোতে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ আলু মজুদ রয়েছে। দাম না বাড়লে এই আলুর ভবিষ্যৎ কী হবে কেউ বলতে পারছেন না। বাজারে দাম কম থাকায় অনেকেই হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না। এদিকে অনেক স্থানে আগাম আলু রোপণ শুরু করেছেন চাষিরা।

দরপতনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় আলুর দাম কমে গেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, এখনো ৪ মাসের বেশি সময় রয়েছে নতুন আলু উঠতে। তাই দাম বাড়বে।

কৃষি অফিস ও হিমাগার মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে হিমাগার রয়েছে ৩৯টি। হিমাগারগুলোতে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ আলু মজুদ রয়েছে। গত কয়েক মাসে ৫০ শতাংশ আলু উত্তোলন করা হয়েছে। তথ্য মতে, হিমাগারগুলোতে এখনো প্রায় ২২ লাখ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) মজুদ রয়েছে। দাম না থাকায় আলু তুলতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ব্যবসায়ী ও চাষিরা।

কৃষি অফিসের মতে, রংপুর জেলায় গত মৌসুমে ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে প্রায় ২০ মেট্রিক টন করে আলুর উৎপাদন হয়েছে। এবার কিছুটা বেশি জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। বাজারে আলুর খুচরা মূল্য  প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা হলেও হিমাগার পর্যায়ে পাইকারি মূল্য ১০ থেকে ১১ টাকা প্রতি কেজি। তাই ব্যবসায়ীরা ও কৃষকরা হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না।

রংপুর নগরীর অদূরে খাসবাগ এলাকার আসাদুজ্জামান ২ একর, আমিন মিয়া ৩ একর, রুবেল মিয়া ৪ একর, মকবুল হোসেন সাড়ে ৪ একর, দুলাল মিয়া ১০ একর,পীরগাছার কল্যানি ইউনিয়নের বুলবুল মিয়া ৩ একর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। তারা জানান, প্রতিমণ আলু উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। বর্তমান বাজারে আলুর দাম কম থাকায় তাদের উৎপাদন খরচ উঠছে না। তাই তারা হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না।

আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য স্বপন রায়সহ কয়েকজন জানালেন, আলুর দর পতনের কারণে তারা হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করেননি। এদিকে, কাউনিয়া উপজেলার চাষি আফজাল হোসেন জানান, তার এলাকায় অনেকেই আগাম আলু রোপণ করেছেন।

রংপুর হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি চেম্বার প্রেসিডেন্ট মোস্তফা সোহরাব টিটু বলেন, এখনো  অনেক আলু হিমাগারে মজুদ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আলুর দাম বাড়লে হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করবে সবাই।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, নতুন আলু বাসতে এখনো ৪ মাসের বেশি সময় বাকি রয়েছে। তাই আলু দাম নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কৃষকরা আলুর ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর