শিরোনাম
১০ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:২৩

ফতুল্লায় ট্রলারডুবি: ভেসে উঠলো আরও ৩ জনের লাশ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ফতুল্লায় ট্রলারডুবি: ভেসে উঠলো আরও ৩ জনের লাশ

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধলেশ্বরী নদীতে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজ ১০ জন যাত্রীর মধ্যে আজ সোমবার আরও ৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। এতে করে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯ জনে। 

এর আগে, রবিবার (০৯ জানুয়ারী) সকালে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর এলাকার ধলেশ্বরী নদীতে ভাসমান অবস্থায় ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেলে আরও ২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বাকি আরও একজনকে উদ্ধারে তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

যে ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- বক্তাবলী চরমধ্যনগর এলাকার শফিকুল ইসলাম সোহেলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৩৫) ও তাঁর মেয়ে তাসমিম (১৫), একই এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়া (১৮) ও জোসনা বেগম (৩৩), মোতালেব (৪২), আওলাদ (২৫), আব্দুল্লাহ (২২), তামীম (৮) ও শামসুদ্দিন (৬৫)। এখনো নিখোঁজ রয়েছে তাফসিয়া (২)। 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, সকালে ধলেশ্বরী নদীতে ভাসমান অবস্থায় আরও ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ পর্যন্ত ৯ জনের লাশ  উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি অনুযায়ী ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে তল্লাশী চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সকালে ফতুল্লার বক্তাবলী সিপাইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ধর্মগঞ্জ খেয়াঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে পৌঁছালে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী এমভি ফারহান নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কা লাগলে ডুবে যায় ট্রলারটি। এসময় অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও একই পরিবারের চারজনসহ আরও ৬ যাত্রী নিখোঁজ হন।  ঘটনার পঞ্চম দিন পার হলেও এখনো কাউকে উদ্ধার করতে না পারায় স্বজনদের আর্তনাদ ক্রমেই বাড়ছে।

এদিকে ঘন কুয়াশায় উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবহন করায় নদীটির এ পথে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। সেদিন থেকেই তাদের খোঁজ পেতে ধলেশ্বরীর তীরে অপেক্ষায় আছেন স্বজনরা।

অপরদিকে, ট্রলারডুবির ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান, চালক জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া ও সুকানি জসিম মোল্লাকে আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা করেছেন বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা বিভাগ) বাবু লাল বৈদ্য। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, জব্দ করা হয়েছে লঞ্চটিও।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর