শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:২৩
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:২৫
প্রিন্ট করুন printer

সাতরাস্তা আবারও ট্রাকের দখলে

মানিক মুনতাসির

সাতরাস্তা আবারও ট্রাকের দখলে
ট্রাকের দখলে থাকা তেজগাঁও-সাতরাস্তা লিংকরোড জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুনরুদ্ধার করেছিলেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। সেই সড়কটি এখন আবারও ট্রাকের দখলে ছবি : বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

আবার এই ট্রাকস্ট্যান্ড ঘিরে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসাও। বেশির ভাগ পরিবহন শ্রমিক ও ট্রাকচালক নানা ধরনের মাদকে আসক্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদক এসে এখান থেকে খুবই নিরাপদে বিভিন্ন স্থানে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী

আবারও ট্রাকের দখলে চলে গেছে তেজগাঁও-সাতরাস্তা লিংকরোড। আগের মতোই চেনা রূপে ফিরেছে এই সড়কটি। সড়কের দুই পাশ দেখলে মনে হবে যেন এটি স্থায়ী কোনো ট্রাকস্ট্যান্ড। দুই পাশ থেকে দুই লেনেরও কম জায়গা রেখে পুরো সড়কেই পার্কিং করা হচ্ছে সারি সারি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ। কয়েক দিন পর পর অবশ্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলেই আবারও সড়কটি ট্রাক চালকদের দখলে চলে যায়। এতে হাত রয়েছে প্রভাবশালী ট্রাক মালিক সমিতি, পরিবহন শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের। অভিযোগ রয়েছে, এখান থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি হয়। যা আবার ভাগ হয়ে চলে যায় পরিবহন শ্রমিক নেতা, স্থানীয় রাজনৈতিক, নেতাসহ প্রভাবশালীদের পকেটে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পকেটেও পৌঁছে যায় এই চাঁদার অর্থ। আবার এই ট্রাকস্ট্যান্ড ঘিরে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসাও। বেশির ভাগ পরিবহন শ্রমিক ও ট্রাকচালক নানা ধরনের মাদকে আসক্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদক এসে এখান থেকে খুবই নিরাপদে বিভিন্ন স্থানে চলে যায় বলে মনে করেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর এই এলাকায় রীতিমতো বিভিন্ন ধরনের মাদকের হাট বসে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তেজগাঁও রেললাইন থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে শুধুই ট্রাকের সারি। সন্ধ্যার পর এই পথে একা চলতেই ভয় হয় বলে পথচারী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এখানে নানা রকমের অপরাধ কর্মকাণ্ডও সংঘটিত হয়। আবার কোনো অপরাধ করে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়াও সহজ দুষ্কৃৃতকারীদের জন্য। শুধু তাই নয় ভিতরের রাস্তাগুলো এমনভাবে ট্রাকের দখলে চলে গেছে সেখানে হাঁটারও উপায় নেই। প্রধান সড়কের ওপর সারি সারি পার্কিং করা ট্রাক দেখলে বোঝারই উপায় নেই এই সড়ক নিয়ে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যুদ্ধ করে দখলমুক্ত করে গেছেন।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি আলোচিত ঘটনা। তৎকালীন সিটি মেয়র প্রয়াত আনিসুল হককে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। তবুুুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই অসামান্য কাজটি করে রাস্তাটিকে জনগণের ব্যবহার উপযোগী করেছিলেন তিনি। রাস্তার মাঝখানে আইল্যান্ডে গাছ লাগিয়ে এবং রং-বেরঙের প্রলেপ লাগিয়ে রাস্তাটিতে সৌন্দর্যবর্ধনও করেছিলেন আনিসুল হক। কিন্তু সেই সৌন্দর্য স্থায়ী হয়নি। আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর এই সড়কটিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো আর পুনর্দখল হওয়া যেন একটা নিয়মিত রীতিতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণযজ্ঞ চলায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে রেলগেট এলাকায়। ফলে মানুষজন হেঁটে যাতায়াত করছেন। তবে সাতরাস্তা থেকে রেলগেট পর্যন্ত যাতায়াত করতে পড়তে হয় অযাচিত যানজটের মুখে। এমনকি এই সড়কের বেশিরভাগ ল্যাম্পপোস্টই নষ্ট। সন্ধ্যার পর নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এ জন্য সন্ধ্যার পর ট্রাকের ফাঁক গলে এই পথে হেঁটে যেতেও ভীতির সঞ্চার হয়।

অথচ সাবেক মেয়র সড়কটিকে দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন জনস্বার্থে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সড়কটি মেয়র আনিসুলের নামে নামকরণও করা হয়। এখন আনিসুল হক নেই, তাই তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সেই পুরনো চেহারায় ফিরেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। কেননা এখন অভিযান পরিচালিত হয় লোক দেখানো। এ জন্য উচ্ছেদ অভিযান শেষ হতে না হতেই আবারও ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিণত হয় সড়কটি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটির বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ডটিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যত্র একটি স্থায়ী ট্রাকস্ট্যান্ড করতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুত তা সম্ভব হবে। তখন আর রাস্তার ওপর কোনো ট্রাকস্ট্যান্ড থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, ঢাকায় তো ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের জন্য নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড গড়ে তোলেনি সরকার। তাহলে হাজার হাজার এই ট্রাক কোথায় থাকবে। তাদের নির্ধারিত জায়গা দেওয়া হলে তারাও আর যত্রতত্র পার্কিং করবে না বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।

এই বিভাগের আরও খবর