Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৩৯

রিং রোডে বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম

হবে শহররক্ষা বাঁধ কমবে যানজট

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

রিং রোডে বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড আগামী মার্চেই যানবাহন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হবে। এ লক্ষ্যে পুরোদমে এগিয়ে চলছে প্রকল্পের কাজ। চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সাগরপাড়ের সড়কটি চালু হলে কমবে নগরের যানজট। ঠেকাবে জ্বলোচ্ছ্বাস। হবে শহর রক্ষা। বাড়বে পর্যটক। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ১৫ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৭২০ কোটি এবং জাপানের দাতা সংস্থা জাইকা দিচ্ছে ৭০৬ কোটি টাকা। চউকের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘আউটার রিং রোড প্রকল্পটির মাধ্যমে বন্দরের যানবাহন চলাচলে নগরের যানজট কমবে। সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের যানবাহনের জন্য এটি বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহার  করা যাবে। একই সঙ্গে পতেঙ্গার তীরে অবস্থিত সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা এবং শহর রক্ষার বাঁধ হিসেবেও কাজ দেবে।’ সিটি আউটার রিং রোডের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘প্রকল্পে আট কিলোমিটার সড়কের  কার্পেটিংয়ের কাজও শেষ। আগামী মার্চ মাসে সড়ক যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে কয়েকটি স্থানে ভূমি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা আছে। এগুলো নিরসনের কাজ চলছে। ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত কাজের মেয়াদকাল  থাকলেও আগেই শেষ করা হচ্ছে কাজ।’ তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা সৈয়দ তারিকুল ইসলাম বলেন, উন্নত বিশ্বে আউটার রিং রোড শহরের একটি অনিবার্য অংশ। তবে বিলম্বে হলেও আমাদের দেশে এটি বাস্তবায়ন হয়েছে। পুরো চট্টগ্রামবাসী এর সুফল পাবে। সমৃদ্ধি আসবে ব্যবসা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায়।’ চউকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের জন্য ১১৩ দশমিক ৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পুরো কাজ চলছে তিন ভাগে। বর্তমানে সাগরপাড়ে ১৫ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মূল সড়কের কাজ চলছে। এই অংশে সড়কের প্রশস্ততা ২০ দশমিক ৫ থেকে ২৪ দশমিক ৫ মিটার, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার উঁচু। তাছাড়া সাগরিকা স্টেডিয়ামের পাশে শাখা (ফিডার) সড়কের নির্মাণকাজও চলছে। প্রকল্পের অধীনে ১১টি স্লুইস গেট নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ করা হবে পথচারীদের পারাপারের জন্য ১০টি সেতু। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ভারতীয় প্রতিষ্ঠান কেএনআর লিমিটেড যৌথভাবে সড়ক নির্মাণ করছে। রবিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, পতেঙ্গার বিভিন্ন স্থানে চলছে সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ভরাটের কাজ। নির্মাণ করা হচ্ছে সেতু। পতেঙ্গার মুসলিমাবাদ থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত অংশে সড়ক পিচঢালাই কাজ শেষ। এখানে চলছে চারলেনের সড়ক বিভাজক নির্মাণের কাজ। সড়কের নিচের অংশে স্থাপন করা হচ্ছে পাথরের ব্লক। নির্মাণাধীন এই সড়কে ইতোমধ্যেই অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সাগরপাড়ে প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণকাজ চলছে। সৈকত এলাকায় দুই কিলোমিটার হাঁটাপথের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পড়ন্ত বিকালে এখানে ভিড় জমে পর্যটকের। চউক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বহুমাত্রিক সুফল মিলবে। সড়কটির কারণে শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা, বেসরকারি বিভিন্ন আইসিডি, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি, রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন তেল কোম্পানির ডিপো, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থাপনা, সাইলো জেটি, খাদ্য গুদাম, ইস্টার্ন ক্যাবলসের কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো জলোচ্ছ্বাস থেকে মুক্তি পাবে।

একই সঙ্গে নগরের উপকূলীয় এলাকা- উত্তর পাহাড়তলী, উত্তর কাট্টলী, গোসাইলডাঙ্গা, উত্তর-মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর, উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ঘূর্ণিঝড় এবং ভাঙনের কবল থেকে মুক্ত হবে।   

প্রসঙ্গত, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় চউক। ২০১১ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৮৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় কাজ শুরু হয়নি। ২০১৩ সালের আগস্টে ১ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকার সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। তবে দ্বিতীয় দফা সংশোধন করে প্রকল্প ব্যয় ২ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করে কাজ শেষ করা হয়।


আপনার মন্তব্য