Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪১

সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরী

সুখবর নেই চামড়া ব্যবসায়ীদের

এ ঈদেও কাজে যাওয়া হচ্ছে না ♦ বন্দরে আটকা রাসায়নিক ♦ অসম্পূর্ণ সিইটিপি নির্মাণ

জিন্নাতুন নূর

সুখবর নেই চামড়া ব্যবসায়ীদের

এবারের কোরবানি ঈদেও চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য নেই কোনো সুখবর। আর মাত্র কয়েকদিন বাদেই কোরবানির ঈদ। বছরের এ সময়টিতে চামড়া ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেন পরিশোধনের জন্য। কিন্তু ব্যবসায় লাভের আশা নিয়ে এ ঈদেও শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ পুরো কার্যক্রমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো প্রস্তুত হয়নি এ শিল্পনগরী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ এখনো শেষ করতে পারেনি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া চামড়া পরিশোধন কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় আমদানিকৃত রাসায়নিকও বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারে খালাসের অপেক্ষায় আছে। ফলে এ ঈদেও সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীর চামড়া ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফেরাতে পারছে না। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসছে সেপ্টেম্বরে এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হবে এবং অক্টোবরে এ শিল্পনগরীর জন্য নবগঠিত কোম্পানির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান জিয়াংসু লিংজাই এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন কোম্পানি লিমিটেড ও ডেভেলপমেন্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এর আগে চীনা প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় সরকারের কাছে সাতবার কাজ শেষ করার জন্য বাড়তি সময়ের অনুরোধ করে। অতপর শিল্প মন্ত্রণালয় গত ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ শেষ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু এবারও তারা ব্যর্থ হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল হালিম গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাভারের শিল্পনগরীর সিইটিপি নির্মাণের কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। সেখানকার ৪টি ইউনিটও কাজ করছে।  আমরা নদী দূষণের বিষয়টিকেও বেশ গুরুত্ব দিচ্ছি। শিল্পনগরীতে ব্যবহৃত যে পানি নদীতে পড়ছে সংশ্লিষ্টরা তার মান পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিচ্ছে। এরই মধ্যে এ শিল্পনগরী পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এটি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা, চিকিৎসা এবং উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনীর জন্য এখানে পর্যাপ্ত স্থান নেই। এ জন্য সরকার আরেকটি শিল্পনগরী নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছে। সেক্ষেত্রে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ে দ্বিতীয় আরেকটি শিল্পনগরী গড়ে তোলার সম্ভাবনা আছে। সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কয়েকজন ট্যানারি মালিক জানান, প্রথমদিকে এখানে এসে আমরা খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তবে গত ৬ মাসে অগ্রগতিতে আমরা এখনো নতুন করে ব্যবসা শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী।

 তারা জনান, এখনো শিল্পনগরীটির ডাম্পিংয়ের কাজে অগ্রগতি নেই। ট্যানারি মালিকদের কেউ কেউ অপূর্ণাঙ্গ অবস্থায় চালু করায় সিইটিপির অবস্থা খুব একটা ভালো নয় এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।  

আশার কথা জানালেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবায়দুল আজমও। তিনি বলেন, আমরা নতুন একটি অ্যাপ তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে শিল্পনগরীর মালিকরা খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক মানদ  অনুযায়ী এ কাজে দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারবেন। এ শিল্পনগরীর বাইরে লেদার ডিজাইন স্টুডিও এবং এ সংক্রান্ত টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জায়গা খুঁজছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরিত হলেও তা সিইটিপি অসম্পূর্ণ রেখেই চালু করা হয়েছে। এর ফলে গত দুই বছরে ট্যানারি মালিকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হন।

সিইটিপি নিয়ে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন এ শিল্পনগরী নির্মাণের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর মহাব্যবস্থাপক, প্রকল্প বিভাগ মোহাম্মাদ মোতাহার হোসেন। তবে তিনি আশা করেছেন, এ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ শিল্পনগরী পুরোদমে চালু হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর