শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৩৫

চট্টগ্রামে খোলা আটা ময়দার সংকট

বিপাকে নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষ

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে খোলা আটা ময়দার সংকট

করোনা সংক্রমণ নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে আটা ও ময়দার কেনাবেচা বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এসব পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে প্যাকেট আটা-ময়দার সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও খোলা আটা-ময়দার সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে নিম্নবিত্ত এবং সাধারণ মানুষের। খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৫ ও ময়দা ৪২ থেকে ৪৮ টাকায়। এ ছাড়া খোলা আটা প্রতি কেজি ২৬ থেকে ৩০ এবং ময়দা ৩২ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতিতে খোলা আটা-ময়দার দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে মিলগুলো। তাহের ফ্লাওয়ার মিলের ম্যানেজার জমির উদ্দিন বলেন, চাহিদা যেমন বাড়ছে, উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ ছুটির কারণে পরিবহন সংকটে উৎপাদিত আটা-ময়দা সময় মতো মোকামে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া কাঁচামাল গমের দামও বেড়ে গেছে। এ কারণে খুচরা বিক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেলে আটা ও ময়দার দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে জানান তিনি। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষ আপৎকালীন আটার ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকেন। তাছাড়া ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত আটা-ময়দা বিক্রি হলেও খোলা আটা-ময়দার ওপরই ভরসা গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের। এতে আটা-ময়দার দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপদে রয়েছেন তারা। চট্টগ্রামের সুজিত সাহা নামের এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, চাল-ডালের মতোই মানুষ আটা-ময়দা মজুদ বাড়িয়েছে। এ কারণে দেশের প্রায় প্রতিটি আটা-ময়দার মিলের মজুদ ফুরিয়ে গেছে। কয়েকদিন ধরে দেশের অধিকাংশ কোম্পানিই চাহিদা অনুযায়ী আটা ও ময়দা সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমানে যানবাহন সংকটে সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি বলে জানান তিনি। চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ ও ২৫ তারিখ পাইকারি বাজারে আটা-ময়দা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। প্যাকেটজাত আটা-ময়দার চেয়ে খোলা আটার চাহিদা ছিল অনেক বেশি। মূলত নিম্নবিত্তদের কারণে খোলা আটার চাহিদা বেশি  ছিল। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। এতে দাম বাড়লেও সংকট কাটেনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর