রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী আইসিইউ শয্যা সংকট চরমে

সাধারণ সিটও খালি নেই কোনো হাসপাতালে

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী আইসিইউ শয্যা সংকট চরমে

বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণের হার। চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোর করোনা ওয়ার্ডে সিট খালি না থাকায় রোগী ভর্তির কোনো সুযোগ নেই। সব হাসপাতালেই করোনা আক্রান্তদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার ও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। নতুন করোনা ইউনিটও করতে হচ্ছে হাসপাতালে। তবে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ক্রমেই করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামেও প্রায় সব হাসপাতালেই আইসিইউ শয্যা পরিপূর্ণ। অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বেড়ে গেছে আইসিইউ শয্যা সংকটও।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনায় মারা গেছেন ৬ জন। এদের মধ্যে ৩ জন নগরীতে ও ৩ জন উপজেলায়। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩০১ জন। যার মধ্যে ২৫৮ জন নগরী এবং ৪৩ জন উপজেলার বাসিন্দা। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩০১ জনের নমুনায় শনাক্তের পর চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৬২ জনে। এর মধ্যে নগরীতে ৫৬ হাজার ৪৪০ জন এবং উপজেলার ১৮ হাজার ১২২ জন। ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনসহ চট্টগ্রামে করোনায় মারা গেছেন ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ৫৩৯ জন নগরে এবং ৩৩৫ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন, সংক্রমণ বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে বিনা চিকিৎসায় রোগী মারা যাবেন। এতে শুধু আইসিইউ সংকট নয়, করোনা রোগীও বাড়তে থাকায় সাধারণ শয্যায়ও পড়েছে সংকটে। কয়েক দিন ধরেই করোনা রোগীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভর্তি হচ্ছে সাধারণ রোগীও।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ঈদুল আজহার বন্ধের কারণে করোনা টেস্টের সংখ্যা কমেছে। আবারও সাধারণ মানুষ টেস্টের আওতায় এলে এই সময়ে কী পরিমাণ সংক্রমণ ছড়িয়েছে তার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান বলেন, করোনার ৯৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। কোনো কেবিনই খালি নেই। ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ২৬ জন। ১২টি আইসিইউর কোনো শয্যাই খালি নেই। এখানে করোনা রোগীর পাশাপাশি জেনারেল রোগীর চাপও বেড়েছে। জেনারেল ওয়ার্ডেও কোনো  কেবিন ও সিট খালি নেই। তিনি বলেন, করোনার শুরু থেকে এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় দুটি  ফ্লোরে ৫২টি কেবিনে সেবার ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়াও আইসিইউ ১২টি বেড, এইচডিইউ এবং হাই ফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থাও ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু ঈদুল আজহার আগে থেকে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় করোনা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত আরও একটি ফ্লোর চালু করেছে। একই কথা বললেন পার্কভিউ হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. হুমায়ুন কবিরও।

জানা যায়, সরকারিভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে পার্কভিউ হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল, ডেল্টা হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালেও করোনা রোগী রাখার সিট খানি নেই। আইসিইউ ছাড়াও সাধারণ ওয়ার্ডেও নেই খালি। এ অবস্থায় পার্কভিউ হাসপাতালে করোনার বিশেষায়িত দুটি  ফ্লোরের পাশাপাশি চালু করেছে আরও একটি নতুন ফ্লোর। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,  গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬ জন। এদের মধ্যে ৩ জন নগরীতে ও ৩ জন উপজেলায়। আক্রান্ত হয়েছেন ৩০১ জন। যার মধ্যে ৪৩ জন উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলাগুলোতে শনাক্ত ৪৩ জনের মধ্যে হাটহাজারীতে সর্বোচ্চ ১৩ জন শনাক্ত হয়। এ ছাড়া, সীতাকুন্ডে ৬ জন, ফটিকছড়িতে ৫ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৪ জন, লোহাগাড়া, পটিয়া, বোয়ালখালী ও রাউজানে ৩ জন করে, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও সন্দ্বীপে ১ জন করে। তবে আনোয়ারা, চন্দনাইশ ও মিরসরাইয়ে কোনো করোনা পজিটিভ মেলেনি।

এই বিভাগের আরও খবর