শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ আগস্ট, ২০২১ ২৩:২৯

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে তিন রোগীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ধামাচাপা

রাহাত খান, বরিশাল

Google News

বরিশালে মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলিকেয়ারে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। মামলা না করার শর্তে মৃতের পরিবারের সঙ্গে হলিকেয়ার কর্তৃপক্ষের দেড় লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে নগরীতে। এর আগেও ওই প্রতিষ্ঠানে দুজন চিকিৎসাধীন রোগীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা একইভাবে ধামাচাপা পড়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিযোগ, মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার অংশ হয়ে উঠেছে ‘শারীরিক নির্যাতন’। মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য বরিশাল নগরীতে ছয়টি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। যার অন্যতম হলিকেয়ার মাদকাসক্তি চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে এর আগেও দুবার নির্যাতনে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ২০১১ সালের দিকে টিঅ্যান্ডটিতে কর্মরত উজিরপুরের গুঠিয়ার জাকির নামে এক চিকিৎসাধীন রোগীর নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে হলিকেয়ারের বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালেও সিঅ্যান্ডবি রোড হলিকেয়ারের শাখা থাকা অবস্থায় চিকিৎসাধীন রোগী নগরীর কাঠপট্টি এলাকার পুলকের মৃত্যু হয়। তাকেও শারীরিক নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ ওঠে তখন। দুটি মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা পড়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে হলিকেয়ারের আর্থিক সমঝোতায়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে হলিকেয়ারের নবগ্রাম রোড শাখার বাথরুম থেকে চন্দন সরকার (২৪) নামে এক যুবকের গলায় গামছা পেঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে হলিকেয়ারে নতুন রোগী আসায় চন্দনের আগের বিছানা পরিবর্তন করে বাথরুমের পাশে একটি শয্যা দেয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বাদানুবাদের জের ধরে রাত দেড়টার দিকে তরিকুল নামে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে ঘুষি দেয় চন্দন। পরে অন্যান্য ভলান্টিয়াররা চন্দনকে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা চন্দনকে চ্যাংদোলা করে বেঁধে রাখে। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই রাতে চিকিৎসাধীন একজন রোগী বাথরুমে গিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় চন্দনের লাশ ঝুলতে দেখে ডাকচিৎকার দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। চন্দন গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে দাবি করেছেন হলিকেয়ারের ইনচার্জ মাইনুল হক তমাল। তবে তাদের এই দাবি বিশ্বাস হচ্ছে না চন্দনের স্বজনদের। এ ঘটনা তদন্ত করে বিচার দাবি করেন চন্দনের মামা নিবাস মহুরী। ওই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রোগীরা গত শুক্রবার উ™ভূত পরিস্থিতিতে হলিকেয়ার কর্তৃপক্ষের সামনে বলেন, শারীরিক নির্যাতন এখন মাদক নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসার অংশ হয়ে গেছে। পান থেকে চুন খসলেই রোগীদের কপালে জোটে শারীরিক নির্যাতন।

 হলিকেয়ার ভবনের পাশের বাড়ির বাসিন্দা খাইরুল হাসানের দাবি- ওই সেন্টারে প্রতিদিনই নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। নির্যাতন এবং আর্তচিৎকারে আশপাশের বাসার শিশুরা আঁতকে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসাধীন রোগীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় না এবং শারীরিক নির্যাতন কোনো চিকিৎসার অংশ নয় বলে দাবি করেন হলিকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। তবে সেন্টারের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাদের শাসন এবং কাউন্সেলিং করে স্বাভাবিক আচরণে অভ্যস্ত করা হয়। চন্দন এবং এর আগে ওই সেন্টারে দুজনের মৃত্যু স্বাভাবিক দাবি করে সুমন বলেন, অর্থের বিনিময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যায় না। আইন কাউকে ছাড়ে না।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফয়সাল আহমেদ চন্দনের পরিবারের সঙ্গে হলিকেয়ারের আর্থিক সমঝোতার বিষয়ে পুলিশ কিছুই জানে না বলে দাবি করেন।

এই বিভাগের আরও খবর