শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:১১

মহাস্থানগড়ে পাওয়া গেল মৌর্য যুগের কূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

মহাস্থানগড়ে পাওয়া গেল মৌর্য যুগের কূপ

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে খননে পাওয়া গেল দেড় হাজার বছর আগের ৮টি কূপ। সেই সঙ্গে পাওয়া গেছে মৃৎ পাত্র, মৃৎ পাত্রের ভগ্নাংশ, মাটির বড় একটি ডাবর (মটকা), পোড়া মাটির গুটিকা, নকশা করা ইট, কূপে ব্যবহার করা ইটসহ পোড়া মাটির পাত্র। মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর ২০১৯ থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খননে এসব মিলেছে। জেলা শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটার দক্ষিণ-পূর্বে (লইয়ের কুড়ি) অংশের ৫টি স্থানে খনন করা হয়। এর মধ্যে ফ্রান্সের দল তিনটি এবং বাংলাদেশের প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর দুটি স্থানে খনন করে। পাঁচটি স্থান থেকে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০ বছর আগের মৌর্য্য যুগের নিদর্শন পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে কিছু নিদর্শন ও অবকাঠামো পাওয়া গেছে, যা সুঙ্গ এবং পাল সাম্রাজের সঙ্গে মিল রয়েছে। খনন স্থানগুলো সংরক্ষণের জন্য মাটি ভরাট করে রাখা হবে। ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স যৌথভাবে খনন কাজ পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নেও প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর খনন পরিচালনা করছে। খননকালে পাওয়া প্রতœতাত্ত্বিক সামগ্রী দেখে ধারণা করা হচ্ছে এসব মৌর্য যুগের এবং ওই সময়েও সমাজব্যবস্থা, মানবসভ্যতার সংস্কৃতি ছিল সমৃদ্ধ এবং যা আড়াই হাজার বছর আগের মৌর্য যুগের প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন। এর আগে বৈরাগীর ভিটায় ২০১৭ সালে খনন করে প্রায় ১৩০০ বছর আগে নির্মিত তিনটি বৌদ্ধ মন্দিরের নিদর্শন মেলে। এবার ওই খননস্থানের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে খনন করা হয়। খননকালে পাশাপাশি ৫টি জায়গায় মোট ৮টি কূপের সন্ধান মিলেছে। সেই সঙ্গে পাওয়া গেছে অসংখ্য পোড়া মাটির পাত্র। খনন দলের সদস্য বগুড়া প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, বিগত দিনে যেসব কূপের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল তা থেকে এবার আলাদা কূপ পাওয়া গেছে। এবারই প্রথম ইটের গাঁথুনিযুক্ত একটি কূপের সন্ধান মিলেছে বৈরাগীর ভিটায়। এ কূপের প্রায় ৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করে ৪৬ সারি ইটের গাঁথুনি দেখা গেছে। বাকি ৭টি কূপ পানি পানের জন্য বা পাতকূয়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খননস্থলগুলো সংরক্ষণের জন্য মাটি ভরাট করে রাখা হবে। যৌথ খননে ফ্রান্সের দল নেতা কলিন লেফ্রাংক। তার সঙ্গে ছিলেন ফ্রান্সের এলবো ফ্রাংকোয়িস ও আতোয়ান। বাংলাদেশ দলের পক্ষে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানার সঙ্গে ছিলেন প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান, শাহজাদপুর জাদুঘরের কস্টোডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ, মহাস্থান জাদুঘরের কস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।


আপনার মন্তব্য