শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০২১ ২৩:০৩

বেনাপোলে মাঠজুড়ে সবুজ সোনা

বকুল মাহবুব, বেনাপোল

বেনাপোলে মাঠজুড়ে সবুজ সোনা

বেনাপোলের মাঠে মাঠে সবুজ সোনার ছড়াছড়ি। যেদিকে চোখ যায় দিগন্তজুড়ে মাথা উঁচু করে দরিদ্র কৃষককে খুশির হাতছানি দিয়ে ডাকছে সবুজ ধানখেত।  যশোরের শস্যভান্ডারখ্যাত শার্শা উপজেলার সবুজ মাঠ ভরে গেছে বোরো ধানের চাষে। কৃষক ব্যস্ত ধানের খেত পরিচর্যায়। আগাছা পরিষ্কার, সার ছিটানো আর পোকা দমনে সমানে চলছে সব পরিচর্যা। আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ ঠিক থাকলে বোরো চাষে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার রেকর্ড পরিমাণ ধানের উৎপাদন হবে বলে আশা ধানচাষিদের। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অভিমত একই রকম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি, এ বছর শার্শায় বোরো ধানের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে। চলতি বোরো মৌসুমে গত বারের তুলনায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এ বছর বোরো চাষ হয়েছে ২৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ৬ হাজার হেক্টর বাসমতি, ৫ হাজার হেক্টর বিরি-৬৩। সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে মিনিকেট ধানের চাষ হয়েছে। শার্শা কৃষি দফতর থেকে জানা যায়, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দফতর থেকে এসএল-৮ এইচও ইস্পাহানি কোম্পানির-১-২ জাতের উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের বীজ ৫ হাজার  চাষিকে বিনামূল্যে  সরবরাহ করা হয়েছে। যাতে আগামী বছর থেকে কৃষকরা নিজেরাই নিজেদের চাষযোগ্য জমিতে বীজ তৈরি করে রোপণ করতে পারেন। এর আগে ইনব্রিড ধানের বীজ কৃষকরা নিজেরাই তৈরি করতে পারতেন। হাইব্রিড জাতের ফলন বিঘাপ্রতি ৩০ মণ পর্যন্ত হতে পারে বলে কৃষি কর্মকর্তার দাবি। বর্তমানে চাষকৃত ইনব্রিড জাতীয় ধানের সর্বোচ্চ ফলন ২৭ মণ পর্যন্ত চাষিরা ঘরে তুলছেন। বর্তমান বাজারে ধানের দাম নিয়েও খুশি চাষিরা। প্রতিমণ ধানের বর্তমান বাজারদর ১১০০ টাকা। ধানের খড় বা বিচালি বিক্রি হচ্ছে মোটা দামে।

ধান এবং বিচালির দাম স্থিতিশীল থাকলে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কাটিয়ে উঠতে পারলে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে কৃষক এবার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করে বেনাপোলের ঘীবা গ্রামের  ধানচাষি মফিজুর রহমান। উপজেলার স্বরূপদহ গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, প্রতি বছর বেরো ধান কৃষকের ঘরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অসৎ আড়ৎদার এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দেয়। প্রশাসনের যথাযথ তদারকি না থাকায় কম মূল্যে কৃষকদের ধান বিক্রি করে দিতে হয়। ধান ক্রয় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা গেলে  প্রকৃত চাষিরা সুফল পাবে।  এ জন্য সরাসরি কৃষকদের কাছে থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা করতে হবে।  নইলে গতবারের মতো এবারও ধান চাষিরা ধানের প্রকৃত মূল্য না পেয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এই বিভাগের আরও খবর