শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনায় স্বপ্নভঙ্গ ড্রাগন চাষিদের

নাটোর প্রতিনিধি

করোনায় স্বপ্নভঙ্গ ড্রাগন চাষিদের

নাটোরে উৎপাদিত ড্রাগন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাইরের দেশগুলোতেও রপ্তানি হচ্ছে। তাই ভরা মৌসুমে ড্রাগন নিয়ে স্বপ্ন দেখেন জেলার শতাধিক চাষি। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাস গত বছরের মতো এবারও ড্রাগন চাষিদের স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে। বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের জারি করা লকডাউনে বাগানের ড্রাগন বিক্রি না হওয়ায় মাথায় হাত চাষিদের। চাষিরা জানান, কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং পরিবহন সংকটের কারণে ড্রাগন ফল সংগ্রহের এই ভরা মৌসুমে বেচাকেনা ও দাম দুটিই কমেছে। ৫০০ টাকা কেজির ড্রাগন এখন মাত্র ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে নাটোরের ড্রাগন চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকা লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় জানায়, চলতি বছরে এ জেলার ৩০০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। এতে ৬৪০ মেট্রিক টন ফল উৎপাদন হওয়ার কথা। ৫০০ টাকা কেজি দরে হিসাব করলে ওই ড্রাগনের দাম দাঁড়ায় ৩২ কোটি টাকা। অথচ চাষিরা এখন বিভিন্ন আড়তে মাত্র ১০০ টাকা কেজি দরে ড্রাগন বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে পুরনো ড্রাগন চাষিদের পাশাপাশি নতুনরাও পুঁজি হারানোর আশাঙ্কায় রয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার বলেন, ড্রাগন অপ্রচলিত ও দামি ফল হওয়ায় এর অধিকাংশ ক্রেতা শহরের। বিধিনিষেধের কঠোরতাও শহরকেন্দ্রিক। ফলে ড্রাগন চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে লিখিতভাবে জানানো হবে। নাটোরে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাগান থেকে ড্রাগন সংগ্রহ শুরু করেন চাষিরা। কিন্তু এবার দফয় দফায় লকডাউনের কারণে শহরগুলোয় ফলের দোকানে বিক্রি কমেছে। বিধিনিষেধের কারণে রাজধানীর সঙ্গে নাটোর ও রাজশাহীর সরাসরি বাস ও ট্রেন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে কোথাও ড্রাগন পাঠানো যাচ্ছে না। তাছাড়া সব চাষির পক্ষে ট্রাকভাড়া করে ড্রাগন অন্যত্র পাঠানোও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।