বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনার আঘাত পর্যটনশিল্পে

রিসোর্ট-কটেজগুলোর ৭০ ভাগ কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। করোনা মহামারীর কারণে পর্যটন জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো ফাঁকা

সৈয়দ বয়তুল আলী, মৌলভীবাজার

করোনার আঘাত পর্যটনশিল্পে

হাওর পাহাড় চা বাগান বেষ্টিত মৌলভীবাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। বর্তমানে করোনার জাঁতাকলে পিষ্ট এ শিল্প। ভ্রমণপ্রেমীদের নেই সমাগম। রিসোর্ট-কটেজগুলোর ৭০ ভাগ কর্মচারীকে ইতিমধ্যে ছাঁটাই করা হয়েছে। করোনা মহামারীর কারণে এই পর্যটন জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। দফায় দফায় বন্ধ এবং              লকডাউনের ফলে পর্যটন খাতে কয়েক কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের। দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, মাধবপুর লেইক, বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, বধ্যভূমি ৭১, সাত লেয়ারের চা, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বাইক্কাবিল, হাইল হাওর, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, কমলা রানীর দীঘি ও জলের গ্রাম অন্তেহরী ইত্যাদি। এসব দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

হোটেল ও রিসোর্টগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার মোকামবাজার এলাকায় অবস্থিত পাঁচতারকা মানের দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, শ্রীমঙ্গল উপজেলার গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, টি-বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, নভেম ইকো রিসোর্ট, টি হ্যাভেন রিসোর্ট, বালিশিরা রিসোর্টসহ প্রায় ১০০টি হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, রিসোর্ট ও কটেজ। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত ভরা পর্যটন মৌসুম। এ সময় ভ্রমণপিয়াসীদের সমাগমে মুখরিত হয় বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিনই বেড়াতে আসে অন্তত ১০ হাজারেরও বেশি  দেশি-বিদেশি পর্যটক। কিন্তু গত বছরের মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দেখা নেই। তাই ধস নেমেছে পর্যটন খাতে। রিসোর্ট-কটেজ মালিকরা জানান হোটেল-মোটেল খোলার ব্যাপারে সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা মেনে পুরোটা সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল হলেও পর্যটকরা বেড়াতে না আসায় মন্দাবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।  শ্রীমঙ্গলের পাঁচতারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান জানান, এক বছরের অধিক সময় থেকে আমরা লোকসানে আছি। সব স্টাফকে নিয়মিত বেতন দিয়ে যাচ্ছি। করোনার দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাবে দেশি-বিদেশি পর্যটক আসছে না, বিশেষ করে বিদেশি পর্যটক না আসায় টাকা কী পরিমাণ লোকসান হচ্ছে তা বলে বোঝানো যাবে না। শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডে গ্রিন লিফ গেস্ট হাউসের স্বত্বাধিকারী এবং শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এসকে দাস সুমন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘরে তুলেছি রিসোর্ট-কটেজ, সরকার সেখান থেকে অনেক রাজস্ব পাচ্ছে, কিন্তু করোনার সময় আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমাদের ব্যাংক ঋণ কয়েক কোটি টাকা, কীভাবে সেগুলো পরিশোধ করব। এখন পর্যন্ত সব রিসোর্ট কটেজে ৭০ ভাগ কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে, তারা বেকার হচ্ছেন। এর মধ্যেও বাকি কর্মচারী ও ম্যানেজারকে বেতন নিয়মিত দিচ্ছি। শুধু হোটেল-মোটেল নয়, জেলার কৃষিপণ্য ও চা ব্যবসা পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটকরাই শ্রীমঙ্গলের লেবু, আনারস, চা ও মণিপুরী শাড়িসহ হাতে বানানো বিভিন্ন সামগ্রীর মূল ক্রেতা। কিন্তু কভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাবে সবখানে মন্দাবস্থা।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই জেলা দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পর্যটন নির্ভর লোকের সংখ্যা বেশি। লকডাউনের কারণে                 ক্ষতির মুখে পড়া পর্যটন সংশ্লিষ্টদের               সহায়তার বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন দফতরে অবহিত করা হয়েছে।