শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

মমেকে প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল

মেঝেতেও জায়গা হচ্ছে না রোগীর

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

‘কভিড ইউনিটে কোনো সিট খালি নেই। কভিড আইসিইউতে কোনো বেড খালি নেই।’ সম্প্রতি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রবেশদ্বারে এসব লিখে একটি নোটিস টানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কারণ, কভিড ইউনিটে ২১০ শয্যার বিপরীতে গতকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি আছেন ৫২৫ জন। ২২ শয্যার আইসিইউও পূর্ণ। অপরদিকে গত বৃহস্পতিবারের কভিড ইউনিটের চিত্র তুলে ধরে মমেক হাসপাতালের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজেও লেখা হয়েছে, ‘২১০ বেডের বিপরীতে আজ রোগী ভর্তি ৫৮০ জন। স্বভাবতই কভিড ইউনিটে কোনো সিট খালি নেই এবং আইসিইউতে কোনো বেড খালি নেই। এমনকি ফ্লোরে পর্যন্ত রোগী রাখার মতো অবস্থা নেই। ন্যূনতম চিকিৎসা ও অক্সিজেন দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন ঘোষণায় ফুটে উঠেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চাপে মমেক হাসপাতালের কভিড ইউনিটের অবস্থা কতটা ভয়াবহ। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী করোনাভাইরাস ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। সব ছাপিয়ে গতকাল মৃত্যুর রেকর্ড করেছে করোনা ইউনিট। মারা গেছেন ৩০ জন। নতুন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন। বিপরীতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৭ জন। জানা যায়, ময়মনসিংহ ও এর আশপাশ অঞ্চলে প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে মমেক হাসপাতালের কভিড ইউনিটে। ২২ শয্যার আইসিইউর বিপরীতে প্রতিদিন অপেক্ষমাণ থাকছে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী। বেশিরভাগ সময়ই রোগীর মৃত্যুর পরই ফাঁকা হচ্ছে আইসিইউ শয্যা। এমনকি প্রতিদিন ১০ হাজার লিটারের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট ও প্রায় ১৩০০ সিলিন্ডার রিফিল করেও করোনা রোগীদের জন্য চাহিদার অর্ধেক অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জনবলের অভাবে আরও ২০টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত থাকলেও চালু করা যাচ্ছে না জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার ফজলুল কবীর বলেন, ‘অক্সিজেন রিফিলে পরিবহন সংকট রয়েছে। এ ছাড়াও রিফিল ডিপোগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে সময়মতো অক্সিজেন মিলছে না। জনবলেরও সংকট রয়েছে। পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’ করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. মহিউদ্দিন খান জানান, ‘জুনের শেষের দিক থেকেই কভিড পজিটিভ রোগীর চাপ হাসপাতালে বাড়তে থাকে। বর্তমানে মাত্রারিক্ত রোগীর অবস্থানে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। গত মাসে করোনা ইউনিটে সর্বমোট ৪৫৩ জন মারা গেছেন। আর চলতি মাসের ছয় দিনেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৩৪ জন। সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত ছয় দিনে জেলায় ৯ হাজার ১৬৭ জনের  নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।