শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ আগস্ট, ২০২১ ২৩:১৪

করোনায় নীরবে কাঁদছেন কেজি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি

করোনায় নীরবে কাঁদছেন কেজি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা
Google News

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার সাধারণ ছুটি ও লকডাউন ঘোষণা করায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গতবছরের ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এতে সারা দেশের মতো দিনাজপুরের কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুলও বন্ধ রয়েছে। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিপাকে পড়া শত শত শিক্ষক-কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষার্থীদের  বেতননির্ভর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে না আসায় তাদের পরিবারে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। নিরূপায় হয়ে কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। করোনায় সরকার বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের নেই কোনো বিশেষ সহায়তা। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ২৫টি কিন্ডারগার্টেনে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। তারা প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

কিন্ডারগার্টেনগুলোর আয়ের একমাত্র উৎস শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত টিউশন ফি। তাদের থেকে প্রাপ্ত এ আয়েই প্রতিষ্ঠানের ভবন ভাড়া, পরিবহন, বিদ্যুৎবিল, শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক সম্মানীসহ সব ব্যয় নির্বাহ করা হয়। শিক্ষার্থীদের বেতননির্ভর এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যৎসামান্য সম্মানী ও টিউশনি করে  জোড়াতালি দিয়ে চলত শিক্ষক-কর্মচারীদের অস্বচ্ছল পরিবারের ভরণপোষণ। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একদিকে বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের বেতন, অপরদিকে বন্ধ রয়েছে প্রাইভেট টিউশনি। ফলে বন্ধ হয়েছে তাদের উপার্জন। লোকলজ্জা ও চক্ষু লজ্জার ভয়ে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা পারছেন না মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে আবার পারছেন না লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে। তারা অপেক্ষায় আছেন কবে এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে।

হাকিমপুরের ফেরদৌস আলী খান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান, সেবা কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক সোহরাব হোসেন, হিলি প্যাসিফিক স্কুলের পরিচালক নাজমুল হক, হিলি অ্যাডভান্স স্কুলের পরিচালক রোজিনা বেগম পান্না, ডলি মেমোরিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম, বাংলাহিলি ড্রীমল্যান্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আবুল হাসনাত, উপজেলা পরিষদ শিশু নিকেতন ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আওলাদ ম লসহ অন্যান্য কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানান, কেজি স্কুলে শিক্ষকতার স্বল্প বেতনের পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে কোনোরকমে পরিবারের প্রয়োজন মিটানোর চেষ্টা করতাম। স্কুল বন্ধ থাকার ফলে আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় আমরা অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা ঋণের দায়ে জর্জরিত। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান স্কুল ভবনের ভাড়া ও বিদ্যুৎবিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর দায়ে প্রায় দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম। বর্তমানে কিন্ডারগার্টেন স্কুল টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা পেশা পরিবর্তন করে কেউ রিকশাচালক,  কেউ ভ্যানচালক, আবার কেউবা রাজমিস্ত্রী, দিনমজুর, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন পেশার মাধ্যমে পরিবার নিয়ে অতি কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ অবস্থায় সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তারা। কিন্ডারগার্টেন সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি সহায়তা না পেলে ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রাখা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকে রাখা দায় হয়ে পড়বে। নর্থবেঙ্গল কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল  সোসাইটির হাকিমপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও চাইল্ড কেয়ার কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, কেজি স্কুল শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় পরিচালিত হয়। স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কোনো বেতন দিচ্ছে না। ফলে আমরা শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রায় দেড় বছর বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছি। এই দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা না পাওয়ায় আমাদের পরিবারে হাহাকার বিরাজ করছে। হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ জানান, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অতি দরিদ্র শিক্ষক-কর্মচারীদের ইতিমধ্যেই কিছু সহায়তা প্রদান করেছি। তারা খুব অর্থ সমস্যায় আছে। দাবির প্রেক্ষিতে তাদের এককালীন কিছু দেওয়ার চেষ্টায় আছি।

এই বিভাগের আরও খবর