বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

করাতকলে ক্ষতবিক্ষত বনাঞ্চল

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

করাতকলে ক্ষতবিক্ষত বনাঞ্চল

বরগুনার পাথরঘাটায় ৯৩টি করাতকলের মধ্যে ৬১টি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। করাতকলে উজাড় হচ্ছে বনের গাছ। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। পাশাপাশি হুমকির মুখে বন ও পরিবেশ। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় পরিবেশের ভারসাম্য হারাতে পারে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত করাতকলের সংখ্যা মাত্র ৩২টি। অপরদিকে লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে পরিচালিত ৬১টি। বনআইনে বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে করাতকল স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অবাধে চলছে এসব করাতকল। বৈধ করাতকল মালিকদের অভিযোগ, পাথরঘাটায় লাইসেন্সকৃত ৩২টি করাতকল থাকলেও অবৈধ করাতকলগুলো দেদার চলার কারণে তাদের কলগুলো ভালোভাবে চলছে না। তারা আরও জানায়, বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের সরকারি বিধান না থাকলেও স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে স্থানীয় লোকজন বনাঞ্চলে গড়ে তুলেছেন ওইসব অবৈধ করাতকল। সংরক্ষিত সামাজিক বনায়নের ভিতর, বনঘেঁষে এমনকি বন কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের কাছেই স্থাপন করা হয়েছে অবৈধ করাতকল। ওইসব অবৈধকলে কাঠ চোর ও অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে চেরাচ্ছে বনের কাঠ। ফলে ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ আর উজাড় হচ্ছে বন। এতে হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়াও আবাসিক এলাকায় হওয়ায় শব্দদূষণেও অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে বাসিন্দারা। এসব করাতকল ও অতিরিক্ত গাছ চুরির কারণে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকার বাগান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান না থাকায় অনুমোদনহীন এসব অবৈধ করাতকলের মাধ্যমে বেপরোয়াভাবে চলছে বৃক্ষ নিধন। চরদুয়ানী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, আমার বাড়ির পাশেই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একটি করাতকল স্থাপন করায় শব্দদূষণে শিশু ও বৃদ্ধরাও অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকাংশ করাতকলগুলো গড়ে উঠেছে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কঘেঁষে। একাধিক করাতকল মালিক জানান, ট্রলারের কাঠ কাটার সূত্র ধরেই করাতকলের ব্যবসা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। কখনো ওপর থেকে কেউ এলে তাদেরকে ম্যানেজ করা হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, যেভাবে বন উজাড় করা হচ্ছে তাতে পরিবেশের ভারসাম্যতা হারাতে বেশি সময় লাগবে না। বন রক্ষার্থে বনবিভাগের লোকবল বাড়ানো দরকার এবং চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্রধারী বনকর্মী নিয়োগের প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি। পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল হক বলেন, যারা অবৈধভাবে করাতকল চালাচ্ছে তাদের নোটিস দেওয়া হবে।