শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

বেড়েছে শীতজনিত রোগী হাসপাতালে শয্যা সংকট

রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে

পাবনা প্রতিনিধি

বেড়েছে শীতজনিত রোগী হাসপাতালে শয্যা সংকট

শীতের শুরুতেই উত্তরের জেলা পাবনায় বেড়েছে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগ। প্রতিদিন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধাসহ অর্ধশত রোগী। চিকিৎসক সংকটের মধ্যে হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায়, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ১৫ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে ৬২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। শিশু ওয়ার্ডে ৩৮ বেডের বিপরিতে রোগী ভর্তি আছে ১৪৫ জন। শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দা ও করিডোরে অবস্থান করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫০-৬০ জন ভর্তি হচ্ছেন। তাদের বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ২৫০। রোগী ভর্তি আছেন ৪০০-৪৫০ জন। সরেজমিন দেখা যায়, শয্যা না থাকায় অধিকাংশ রোগীর জায়গা হয়েছে বারান্দা অথবা করিডোরে। ধারণক্ষমতার চার গুণ বেশি রোগী আসায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীরা ১০-১২ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তাদের জন্য শয্যা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ছোট একটি বারান্দায় রোগী ও স্বজনরা গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন। এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন বিপাকে পড়ছেন। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে শুধু বিনা পয়সায় নার্সদের সেবা ছাড়া সবই বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে কিছু সরবরাহ করা হচ্ছে না। বাথরুমগুলো ব্যবহার করার মতো নয়। সব সময় অপরিষ্কার থাকে। এভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স মাসুদা জানান, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য বর্তমানে কলেরা স্যালাইনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শুধু মুখে খাবার স্যালাইন সরবরাহ রয়েছে। ফলে চিকিৎসকরা যে ধরনের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন রোগীর স্বজনরা বাইর থেকে সে ওষুধ কিনে আনছেন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সংকটের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। স্যালাইনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে চলেও এসেছে। তবে হাসপাতালের শষ্যা সংখ্যা অনুযায়ী চিকিৎসক সংকট রয়েছে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীর জানান, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে নানা সংকট দীর্ঘ দিনের। তার পরও সাধ্যমতো চেষ্টা করছি ভালো সেবা নিশ্চিত করতে।

সর্বশেষ খবর