সারসংকটে পড়েছেন পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র চা চাষিরা। বাজার থেকে প্রয়োজন মতো সার কিনতে পারছেন না তারা। এ কারণে ভরা মৌসুমে চা বাগানে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে পারছেন না চা চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নির্ধারিত ডিলারদের কাছে চা বাগানে প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুত নেই। চা বোর্ড বলছে, সারের চাহিদা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কয়েকবার পাঠানো হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর এবং নীলফামারী জেলায় নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত এবং বড়-ক্ষুদ্র মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার চা বাগান রয়েছে। প্রায় ১১ হাজার ৬০০ একর জমিতে চা আবাদ হচ্ছে। এই চা বাগানগুলো থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ১০ কোটি সবুজ চা পাতা উৎপাদন হয়েছে। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থিত ৩১টি চা কারখানায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার তৈরি চা পাতা উৎপাদন হয়েছে। এ এলাকা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল। দেশের মোট চায়ের প্রায় ২২ শতাংশ এ অঞ্চলে উৎপাদন হয়। চা বোর্ড আরও জানায়, এসব চা বাগানে এ মৌসুমে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৫০৭ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন এমওপি সারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলে চা চাষ হলেও মন্ত্রণালয় থেকে চায়ের জন্য আলাদা সার বরাদ্দ দেওয়া হয় না। বোরো, আমনসহ সাধারণ ফসল আবাদের জন্য সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কৃষকরা তা ফসল আবাদে প্রয়োগ করে থাকেন। এই সার চা বাগানেও প্রয়োগ করা হয়। এতে একদিকে সাধারণ কৃষক সার সংকটে পড়েন। চা চাষিরাও চা বাগানে প্রয়োজনীয় সার দিতে পারছেন না। চা শিল্পবাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সার বরাদ্দের দাবি জানান তারা। সার ডিলাররা বলছেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাচ্ছেন না তারা। বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, উত্তরাঞ্চলে চায়ের আবাদ প্রতি বছর বাড়ছে। ক্ষুদ্র চা চাষিরা বাড়ির আনাচে-কানাচে চায়ের আবাদ করছেন। সেই তুলনায় সারের বরাদ্দ কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শুধু সাধারণ ফসল আবাদের জন্য সার বরাদ্দ দেয়। চা চাষের জন্য আলাদা বরাদ্দ দেয় না। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কয়েক বছর থেকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল মতিন বলেন, পঞ্চগড়ে প্রায় দেড় লাখ একর জমিতে আমন, বোরো আবাদ হয়। এ ছাড়া বাদাম, মরিচ, টম্যাটো, শাকসবজি, গম, পাট, মালটা, আমসহ নানা ধরনের ফসল চাষাবাদ হয়। এসব ফসল আবাদের জন্য আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে ৪৬ হাজার ৩৯৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১৮ হাজার ৫৮১ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ২২ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন এমওপি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। চা চাষিরাও এ সার সংগ্রহ করে চা বাগানে প্রয়োগ করেন। ফলে সারের সংকট সৃষ্টি হয়। চা চাষের জন্য আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সার বরাদ্দ দেওয়া হয় না। আমরা বিষয়টি বারবার চা বোর্ডকে জানিয়েছি। চা শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন। তাই কৃষি মন্ত্রণালয় চায়ের জন্য সার বরাদ্দ দিচ্ছে না। এটা আমরা চা বোর্ডকে জানিয়েছি। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এর কোনো সমাধান হয়নি।