Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ জুন, ২০১৯ ২১:৩৬

বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে পাহাড়ের মানুষ

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে পাহাড়ের মানুষ

অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ রাঙামাটির তিন উপজেলা। চাহিদার অধিক বিদ্যুৎ পেয়েও সংকট যেন কাটছে না। ঘন ঘন লোডশেডিং ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় সময় থাকতে হচ্ছে বিদ্যুৎবিহীন। এছাড়া রয়েছে অসহনীয় লো-ভল্টেজ। এমন পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলার বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলাবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এখন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের জনজীবন। 

গত তিনদিন ধরে টানা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিদ্যুতের এমন দুর্দশা দ্রুত সমাধান করা না হলে আন্দোলনে নামবে বলে হুমকি দেন উপজেলাবাসী। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই জর বিদ্যুৎ স্থাপনের পর দীর্ঘ ৫৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন ছিল এ অঞ্চলের মানুষ। পরে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে ১১ কেভি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় রাঙামাটির বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায়। সে থেকে বিদ্যুতের কারণে আধুনিকতার ছোয়া লাগতে শুরু করে উপজেলাগুলোতে। এ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে বরকল উপজেলার বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী গ্রাহক। এছাড়া জুরাইছড়ি উপজেলায় এক হাজার ও বিলাইছড়ি উপজেলায় এক হাজার ৫০০ পরিবারকে এ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়। কিন্তু তার মধ্যেও মিলছে না চাহিদামত বিদ্যুৎ। টানা ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন উপজেলাগুলোতে মারাত্মক ভোগান্তি বেড়েছে। নানা সমস্যায় পড়েছে সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পড়া-লেখা ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। 

রাঙামাটির জুরাইছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা ও বিলাইছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনির্মল দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চরম সমস্যায় পরেছে এ অঞ্চলের মানুষ। অচল হতে বসেছে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। 

বরকল উপজেলা বিদ্যুৎ গ্রাহক উন্নয়ন সমিতির আহবায়ক মো. আবু বক্কর ও বড় হরিনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিলাময় চাকমা বলেন, বরকল ও জুরাইছড়িতে এখনো পর্যন্ত কোনো লাইন ম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাই বিদ্যুৎ সংযোগে কোনো সমস্য সৃষ্টি হলে দেখার কেউ নেই। তাই বিদ্যুৎ ভোগান্তি এখন চরমে। এছাড়া বিলাইছড়ি জুরাইছড়ি ও বরকল দূর্গম উপজেলায় যে ১১ কেভি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনটি গ্রাহকদের চাহিদার চাইতে অপ্রতুল। 

রাঙামাটি কাপ্তাই উপজেলার জলোবিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান মজিদ জানান, কাপ্তাই লিচু বাগান ও চন্দ্রঘোনা এলাকায় ৩৩ কেভি লাইনটির যান্ত্রিক ক্রটি হওয়ায় তিন উপজেলায় আপাতত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজ চলছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা হবে। 

রাঙামাটি জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার বলেন, দূর্গম পাহাড়ি উপজেলাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই কঠিন। নেই কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। হ্রদে পানি কমে যাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ। তাই বিদ্যুতের যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দিলেও শহর থেকে কোনো মানুষ সেখানে পৌঁছাতে পারে না। বিদ্যুৎ বিভাগের জনবল সঙ্কটও চরমে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। উপজেলাগুলোতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে এসব সমস্যা তেমন হবে না।  

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য