শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জুলাই, ২০১৯ ১৮:৩২

শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ী ঢলের ফলে শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সদর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরাতন ভাঙা অংশ দিয়ে বন্যার পানি দ্রুত বেগে প্রবেশ করে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

গত ২৪ ঘণ্টায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ১ মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে শেরপুর-জামালপুর সড়কের নন্দীর বাজার পোড়ার দোকান কজওয়ের (ডাইভারশন) ডুবে কজওয়ের ওপর দিয়ে প্রায় দুই ফুট উচ্চতায় বন্যার পানি দ্রুত বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন সীমিত চলাচল করলেও যেকোন সময় শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। 

এদিকে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ৫ দিনে বন্যার পানিতে ডুবে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট বন্যায় শেরপুরের ৫ টি উপজেলার ৩৭টি ইউনিয়নের ১৮৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৬৭ হাজার লোক পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। জেলায় ৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় ৬ দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোকসেদুর রহমান।

জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার বিভিন্ন পুকুর, জলাশয় এবং খামারের মাছ ভেসে এবং পাড় ভেঙে প্রায় ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ১২৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত এবং ৭৪৭ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং ১৬৫ হেক্টর জমির আউস ধানের ক্ষেত পানিতের ডুবে গেছে। এপর্যন্ত বন্যা দুর্গতদের মাঝে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন করে ঝিনাইগাতী উপজেলার জন্য ১০ মেট্রিক টন এবং শেরপুর সদর উপজেলার জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার

 

 

 
 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর