Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৩১

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

জামালপুরে দুর্গত এলাকায় ত্রাণের সংকট, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে দুর্গত এলাকায় ত্রাণের সংকট, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা কমলেও জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনার পানি এখনও বিপদসীমার ১১৪ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, বকশীগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর। বন্ধ রয়েছে জামালপুরের সাথে চার উপজেলার রেল যোগাযোগ। 

টানা ৮ দিন জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিগত সময়ে বিপদসীমার সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে ১৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত তিনদিন ধরে যমুনার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও খুব ধীরগতিতে কমায় এখনো বাহাদুরাবাঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ৩ দিন ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর রবিবার ১ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলা ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬২টি ইউনিয়নের প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে বন্যা পানি ছড়িয়ে পড়ছে সদর উপজেলার কেন্দুয়া, তুলশীরচর, লক্ষীরচর ইউনিয়ন ও পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে। ১১ দিন ধরে যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে থাকায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এখনো বন্যা দুর্গত এলাকার অনেক জায়গায় ত্রাণ না পৌঁছানোর অভিযোগ করছেন দুর্গতরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় যে পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, তা দিয়ে পরিবার নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী এই বন্যা মোকাবেলা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ বন্যা কবলিতদের। তারা বলছেন, দশ দিনের বেশি সময় ধরে তারা ঘরবাড়ি এবং কর্মহীন অবস্থায় আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। সেখানে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ৫-১০ কেজি চাল আর সামান্য কিছু নগদ টাকা ত্রাণ হিসেবে দিচ্ছেন, তা দিয়ে গত দশদিনের বেশি সময় ধরে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, সামানের আরো ১০ থেকে ১৫ দিন কিভাবে কাটবে তা নিয়ে চিন্তিত তারা। 

এদিকে মানুষের পাশাপাশি গো-খাদ্যেরও তীব্র সংকট রয়েছে। খাবারে অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে গবাদি পশুরা। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যারা গরু পালন করছিলেন, খাদ্য সংকটে গরুর স্বাস্থ্য কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন তারা। অপরদিকে, বন্যার পানি কমতে শুরু করায় দুর্গত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ। তবে দুর্গতদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ৮০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন। এখনো রেল লাইনে পানি থাকায় গত ৬ দিন ধরে জামালপুরের সাথে মেলান্দহ-ইসলামপুর-দেওয়ানগঞ্জ এবং ৪ দিন ধরে সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

এর মধ্যে রবিবার দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় জানান, বকশীগঞ্জের  সূর্যনগর পূর্বপাড়া গ্রামের শাহীন মিয়ার শিশু কন্যা সুজুনী আক্তার(১১), একই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের কন্যা সাথী আক্তার(৮) ও মাসুদ মিয়ার কন্যা মৌসুমী আক্তার(৮) বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে কলাগাছের ভেলায় উঠে খেলা করছিলো। খেলার সময় ভেলাটি হঠাৎ উল্টে ওই তিন শিশু পানিতে পড়ে যায়। এ সময় সুজুনী আক্তার ও সাথী আক্তার পানিতে ডুবে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া পানিতে হাবুডুবু খেয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন মৌসুমী আক্তার। পরে স্থানীয়রা মৌসুমীকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

এদিকে রবিবার দুপুরে জামালপুরের জেলা প্রশাসক তার সম্মেলন কক্ষে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর জানান, দুর্গত এলাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৯৮০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বেশিরভাগ বরাদ্দ ইতিমধ্যে বিতরন করা হয়েছে। বন্যার্তরা যাতে অনাহরে না থাকে সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।  সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক) এটিএম কামরুল ইসলাম তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।   

বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব


আপনার মন্তব্য