Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ১২:১৮

সৈকতে ভেসে আসা মৃত গরুর দুর্গন্ধে নাকাল পর্যটকরা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

সৈকতে ভেসে আসা মৃত গরুর দুর্গন্ধে নাকাল পর্যটকরা

কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা গরুর মৃতদেহ পড়ে আছে যেখানে-সেখানে। এতে দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। সৈকতে এ অবস্থা ও দূষিত পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

সরেজমিনে শনিবার বিকালে টেকনাফে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মৃতদেহ পড়ে আছে জিও ব্যাগ ও ব্লকের মাঝখানে। এর আধা কিলোমিটার দূরে তুলাতলি ও লম্বরী এলাকায় পড়ে আছে আরও দুটি গরুর মৃতদেহ। এখানেই শেষ নয়। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নারিকেলের ছোবড়া, ডাবের খোসা, বিস্কুট-চানাচুরের প্যাকেট।

এ বিষয়ে এক গরু ব্যবসায়ী বলেন, মিয়ানমার থেকে আনার সময় কিছু গরু মারা যায়। তবে এবার গত শনিবার একদিনেই এক ট্রলারে ৩৩টি গরু মারা গেছে। ওইসব গরু গুলো সাগরে ফেলে দিয়েছে শ্রমিকরা। পরে গরু গুলো ভেসে আসছে কূলের দিকে।  

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কোরবানির ঈদের আগে মিয়ানমার থেকে নৌপথে পশু আনেন বেপারিরা। নৌকায় মরে যাওয়া পশু সাগরে ফেলে দেন তারা। ওই পশুই সৈকতে ভেসে এসেছে।

ঢাকার এক বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি চতুর্থবারের মতো টেকনাফে এলাম। সমুদ্র সৈকত ও পাহাড় ঘেরা টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ দিয়ে চললে কি যে আনন্দ লেগেছে। তবে এবার সৈকতের এমন হাল দেখে হতবাক হয়েছি। চারদিকে দুর্গন্ধ, কোথাও দাঁড়ানো যাচ্ছে না।’

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, এভাবে মৃত প্রাণীর দেহ পড়ে থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এসব মৃতদেহ থেকে রোগ-জীবাণু ছড়াতে পারে। পর্যটকদের স্বার্থে এগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলা জরুরি।

সৈকতপাড়ের লোকজন বলেন, আশপাশে দোকানপাটের আবর্জনা সমুদ্র সৈকতে ফেলা হয়। এ কারণে আবর্জনা মাড়িয়েই সৈকতে ঘুরে বেড়াতে হয় পর্যটকদের। জেলেরা সৈকতেই জাল পরিষ্কার করেন। জালে আটকে থাকা মরা মাছ ফেলা হয় বালুচরে। মাছ পঁচেও দুর্গন্ধ ছড়ায়।

সৈকতের মহেষখালীয়াপাড়া পয়েন্টে জেলে আব্দুর রশিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘প্রায় সময় মাছ ধরে কূলে আসার পর চরে জাল বিছিয়ে আটকাপড়া মাছসহ কাঁকড়া পরিষ্কার করি। কেউ এতে কোনো দিন বাধা দেয়নি। এসব মাছ ফেলে রাখলে কিছু অংশ কুকুরে খায়, বাকিগুলো জোয়ারে ভেসে যায়। তাই কষ্ট করে দূরে নিয়ে ফেলার কোনো কারণ নেই।’ 

এসব মাছ জাল থেকে ছাড়িয়ে সৈকতে ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অবশ্য জেলেরা স্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা মৃত প্রাণীর দেহগুলো পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য