শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:২০

কান্তজীউ মন্দিরে মাসব্যাপী রাস মেলা শুরু

দিনাজপুর প্রতিনিধি

কান্তজীউ মন্দিরে মাসব্যাপী রাস মেলা শুরু

প্রাচীন স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী কান্তজীউ মন্দিরে রাস উৎসব উপলক্ষে মাসব্যাপী রাস মেলা শুরু হয়েছে। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের রাস লীলা অনুষ্ঠিত হয়। 

মন্দির দর্শনে আগতরা জানান, এ রাস উৎসবে কেউ আসেন মনোবাসনা পূরণে, কেউ পুণ্যতা লাভের আশায়, আবার কেউ আসেন।

এর আগে, সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক কান্তনগর মন্দির প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী রাস মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। 

উদ্বোধনকালে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সৌহার্দের যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেটিই হলো এই রাস মেলার মূল প্রতিপাদ্য।

রাস মেলার আয়োজক রাজ দেবোত্তর এস্টেটের সদস্য প্রবীণ শিক্ষক পুলিন বিহারী চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, রাস পূজার মধ্য দিয়ে রাস উৎসব একদিনই হয়। আর এই উৎসবকে ঘিরে চলে মাসব্যাপী রাস মেলা। 

তিনি আরও জানান, তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা প্রাণনাথ বৃন্দাবন থেকে কৃষ্ণমূর্তি নিয়ে আসেন এবং স্বপ্নাদৃষ্টি হয়ে কাহারোলের এই নির্জন স্থানে কৃষ্ণকে অধিষ্ঠিত করেন। 

মেলায় ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজার হাজার ভক্ত ও পুন্যার্থীদের পদভারে মন্দির অঙ্গন মুখরিত হয় বলে তিনি জানান।

এদিকে মেলায়, নির্মল বিনোদনের জন্য সার্কাসসহ ধর্মীয় কীর্ত্তনগান ছাড়াও হিন্দু ধর্মীয় বই-পুস্তক, শাঁখা-সিদুর, শঙ্খ, বালা, চুড়িসহ নানান পণ্যের পসরা সমৃদ্ধ দোকান মেলায় শোভা পেয়েছে।

মাসব্যাপী রাস মেলা উদ্বোধনী সভায় দিনাজপুর রাজ দেবত্তোর এস্টেটের এজেন্ট অমলেন্দু ভৌমিকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। অন্যদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা নাসিম আহমেদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজ দেবোত্তর এস্টেট এর সদস্য চিত্ত ঘোষ ও নির্বাহী সদস্য প্রেম নাথ রায় প্রমুখ।

এদিকে, মাসব্যাপী রাস মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর হতে রাজবংশের পরিবার প্রচলিত চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমীর আগের দিন কান্তনগর মন্দির হতে ঢেঁপা নদীপথে নৌ-বহরে শ্রীশ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ দিনাজপুর রাজবাড়ী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার রাস পূর্ণিমার একদিন আগে শত শত ভক্তদের অংশ গ্রহণের মধ্যদিয়ে প্রচলিত নিয়ামুযায়ী কান্তনগর মন্দিরে নেয়া হয়। এরপর প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের চাঁদের পূর্ণিমায় এই রাস উৎসব পালিত হয়। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য