শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০৯:৫১
আপডেট : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ১০:০৯

খাদ্য গোডাউনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের অভিযোগ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

খাদ্য গোডাউনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের অভিযোগ

লালমনিরহাটের আদিতমারী খাদ্যগুদামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গুদাম কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে কতিপয় ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এসব ধান ক্রয় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, প্রতিদিন ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে গোডাউনে ধান নিয়ে আসছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। এসব সিন্ডিকেট মাধ্যমে চলে আমন ধান সংগ্রহ অভিযান। সিন্ডিকেটের বাহিরে কেউ সেখানে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক।

আদিতমারী উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৪৭৪ জন কৃষকের নিকট থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এক হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। এবছর লটারির মাধ্যমে কৃষকও নির্বাচন করা হয়েছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ১৫ মন ধান সরকারি গোডাউনে বিক্রি করতে পারবেন।

এদিকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে এ ধান কেনার কথা থাকলেও কতিপয় ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ধান কিনছেন  ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আ.জ.ম হাবিবুল হক। ধান কেনার সময় ধানের আদ্রতা ১৪ ভাগ থাকার কথা থাকলেও ১৮ থেকে ২০ ভাগ আদ্রতা সম্পন্ন ধান তিনি ক্রয় করছেন। আর একারণে এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টন প্রতি এক হাজার টাকা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, একজন কৃষক একটি ভ্যান গাড়িতে করে ১৫ মন ধান নিয়ে গোডাউনে এলেও ব্যবসায়ীরা ট্রাক ও ট্রলিতে ভরে ধান গোডাউনে নিয়ে আসছেন।

ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন কৃষকের কাছ থেকে বস্তা সেলাই, ওজন, স্টেনসিল বাবদ কোন টাকা নেয়ার নিয়ম না থাকলেও তার নেতৃত্বে কৃষকের কাছ থেকে বস্তা প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা নিচ্ছেন লেবাররা। নিয়ম রয়েছে এসব লেবারের বিল হ্যান্ডলিং ঠিকাদার পরিশোধ করবেন। কিন্তু তিনি কোন নিয়মই মানছেন না।

নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আমরা ধান নিয়ে সরাসরি গোডাউনে গেলে ধানের আদ্রতা ও পরিষ্কার করা হয়নি এসব অজুহাতে নানা হয়রানি করা হয়। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোডাউনে ধান দিলে এসব কোন কিছুই তিনি দেখেন না। ফলে টাকা দিলে অনায়াসে এসব ধান গোডাউনে বিক্রি করা যায়।

এসব অনিয়মের বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আ.জ.ম. হাবিবুল হক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'ঠিকাদার বিল পরিশোধ না করায় গোডাউনের শ্রমিকরা টাকা নিচ্ছেন।' সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে ধান নিয়ে আসা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি বলেন, 'কয়েকজন কৃষক মিলে একসাথে ছোট ছোট ট্রলিতে করে ধান নিয়ে আসতে পারবেন।'

আদিতমারী উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু হেনা মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হন নাই। এর মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি তাকে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য