শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৭:২৭

ভাষা সৈনিক ও সাংবাদিক আবদুল জলিলের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

লাকসাম (কুমিল্ল) প্রতিনিধি

ভাষা সৈনিক ও সাংবাদিক আবদুল জলিলের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ভাষা সৈনিক এবং কুমিল্লার লাকসাম থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক লাকসাম’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আবদুল জলিলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। 

শুক্রবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাষা সৈনিকের আত্মার মাগফেরাত কামনায় লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের চন্দনা গ্রামের নিজ বাড়িতে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের চন্দনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাষা সৈনিক ও সাংবাদিক আবদুল জলিল। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার তাগিদে যোগদান করেছিলেন ভাষা আন্দোলনে। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তিনি দক্ষিণ কুমিল্লার প্রাচীন সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক লাকসাম’ এর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। 

জীবদ্দশায় গুণী এ সাংবাদিক কুমিল্লা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ট্র্যাব), বাসস, বাংলাদেশ বেতার কুমিল্লা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক অর্জন করেন। তিনি বৃহত্তর লাকসাম ও কুমিল্লা সংক্ষিপ্ত অধ্যায়সহ জনপদ কথামালা, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার সাংবাদিকতার উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস, ওগো বঙ্গবন্ধু, সাগর তীরে কেওড়াবনে, পীর মুর্শিদের বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। 

তার রচিত নাটক ছিল ‘খুনে লাল বাংলা’। সত্তরের দশকে তিনি উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা, খেলাঘর ও সুজন মজলিশের আঞ্চলিক সংগঠক হিসেব ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৮ সালে তার প্রতিষ্ঠিত ‘লাকসাম লেখক সংঘ’র মাধ্যমে তিনি সৃজনশীল লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক তৈরির প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন।

ভাষা সৈনিক আবদুল জলিলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চেয়েছেন তার বড় ছেলে সাপ্তাহিক লাকসাম এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুর উদ্দিন জালাল আজাদ।

গত বছরের এ দিনে লাকসাম মমতাময়ী হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য