শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০১:২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে আমের মুকুলে সর্বত্রই হলুদ-সবুজের সমারোহ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ে আমের মুকুলে সর্বত্রই হলুদ-সবুজের সমারোহ

বইছে ফাল্গুনী হাওয়া। সাথে যোগ হয়েছে আমের মুকুল। চারিদিকে সোনালি শোভা। যেমন তার সৌন্দর্য, তেমনি তার ঘ্রাণ। ঠাকুরগাঁও জেলার সর্বত্রই আম গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল। মৌ মৌ ঘ্রাণে মাতোয়ারা মৌমাছির দল। ভাষায় যথাযথ ছবি ফোটানো না গেলেও আমের গাছে এমন মুকুল ফোটা দৃশ্য এখন জেলা জুরে। এ যেন হলুদ আর সবুজের মিলনমেলা। 

বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ জেলার মাটি তুলনামূলক উঁচু এবং মাটির প্রকৃতি বেলে দো-আঁশ। এসব জমিতে কয়েক বছর আগেও চাষিরা গম, ধান, পাট ইত্যাদি আবাদ করতেন। কিন্তু ধান গম আবাদ করে তেমন একটা লাভ পাওয়া যায় না। তাই জেলার বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল এলাকায় ব্যাপক আম বাগান গড়ে উঠেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় আম বাগানের পরিমাণ ৮ হাজার ২৯ হেক্টর এবং বাগানের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। পীরগঞ্জ-হরিপুর সড়কে গেলে এখন চোখে পড়বে রাশি রাশি আম বাগান। এ জেলার বিখ্যাত আমের নাম সূর্য্যপূরী। এটি আগে বালিয়াডাঙ্গী এলাকায় চাষ হলেও বর্তমানে জেলার সর্বত্রই চাষ হচ্ছে। পাতলা আঁটি আর সুমিষ্ট গন্ধের জন্যে এ আমের জুড়ি নেই ।

বাগান ব্যবসায়ী এরশাদ আলী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় এবার ব্যাপক মুকুল দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা বলছেন, মুকুল দেখে আশা করা যায় এবার আমের ব্যাপক ফলন হবে। শিলাবৃষ্টি বা ঝড় না হলে ব্যাপক আমের ফলন পাওয়া যাবে বলে জানান বাগান মালিকরা।

কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন জানান, ছত্রাকে যাতে মুকুল নষ্ট না হয় সেজন্য কীটনাশক হিসেবে ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের দানাদার প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম ও সাইপারম্যাক্সিন গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মুকুল গুটিতে পরিণত হওয়ার সময় একই মাত্রায় দ্বিতীয়বার স্প্রে করতে হবে।

 

বিডি প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য