শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:০৮

বগুড়ার ৩৮৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ার ৩৮৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
শহীদ মিনার নেই

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত ৩৮৮টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। 

শেরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৪৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে শিশু কল্যাণ স্কুলসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৩৮টি, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ ৬টি, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৪টি, মাদ্রাসা ৪২টি, কারিগরি কলেজ ৬টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৬টি, কিন্ডার গার্টেন ও স্কুল রয়েছে প্রায় ২০০টি। ৪৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ৫৪টি প্রতিষ্ঠানে। 

বাকি ৩৮৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ পর্যন্ত কোনো শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৫-৩৮ হাজার, দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল ও এবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ২৫ হাজার এবং মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৮ হাজার ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে থাকেন। 

কিন্তু, স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না। কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার গড়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরে ভেঙে ফেলা হয়। ভাষা শহীদদের অবদানের ইতিহাস পাঠ করতে পারলেও স্বচক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তারা শহীদদের নাম ও আত্মত্যাগের বিষয়টি কেবল বইপুস্তকে যতটুকু পাচ্ছে তাই মুখস্ত করে চলছে। 

প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ না থাকায় ভাষা আন্দোলন ও শহীদদের সম্পর্কে তাদের বাস্তব ধ্যান-ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে না। বগুড়ার শেরপুরে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ঘটনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে আজও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ভাষা আন্দোলনের পর স্বাধীনতার প্রায় ৪৯ বছর হতে চললেও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। 

শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী, শাহাদত হোসেন, আনিছুর রহমান ঠাÐু, শহিদুল ইসলাম, শাহিনুর রহমান, আবু রায়হানসহ একাধিক অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানরা যে সব প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে সেখানে কোনো শহীদ মিনার নেই। ফলে তারা বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না। এ অবস্থায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও কলাগাছ, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ বানিয়ে শহীদ দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তারা।

শেরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা পারভীন জানান,  উপজেলায় শিশুকল্যাণ স্কুলসহ সরকারিভাবে ১৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টিতে শহীদ মিনার নির্মাণ রয়েছে। ২৫টি স্কুলে শহীদ মিনার নতুন করে নির্মাণ কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের উচিত ছিলো অনেক আগেই নিজ উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করা। কিন্তু এতদিনেও তা করা হয়নি। 

তবে তিনি এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই চলতি মুজিববর্ষেই এ উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য