শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:৫৫
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:১০

শিক্ষার মাধ্যমে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া

দিনাজপুর প্রতিনিধি

শিক্ষার মাধ্যমে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া

শিক্ষার্থীদের কেউ হাঁটতে পারে, কেউ পারে না। আবার কেউ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে। কারো হাত বাঁকা, কারো পা বাঁকা আবার কেউ সঠিকভাবে কথাও বলতে পারে না। আবার কয়েকজন আছে যারা মা-বাবার কোলে আসা-যাওয়া করে। এসব প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের রসুলপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে বদলে যাচ্ছে তাদের জীবন।

যেসব প্রতিবন্ধী আগে স্পষ্ট করে কথা বলতে কিংবা লিখতে পারতো না, চিনতে পারতো না বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা, তারাই এখন কথা বলতে ও লিখতে পারে, চিনতে পারে বর্ণমালা। আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও তারা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে।
ভর্তির পর পরিবর্তনে গ্রামাঞ্চলের এসব অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশু নিয়ে হতাশ অভিভাবকদের মাঝে আশার আলো দেখিয়েছে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বিদ্যালয়টি। কাহারোল উপজেলা শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে রসুলপুর ইউনিয়নে এ বিদ্যালয়টির অবস্থান। নিজ পরিবারেও যাতে এসব শিশু অবজ্ঞা কিংবা অবহেলার শিকার না হয় সে জন্যও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করছে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকরা। এসব শিশু যাতাযাতের জন্য নিজস্ব ৩টি ইজিবাইকও রয়েছে।

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীর মা নীলা রানী জানান, তার মেয়ে একজন প্রতিবন্ধী। দিন দিন তার উন্নতি হচ্ছে। আমি আর প্রতিবন্ধী সন্তানকে বোঝা মনে করি না। শত কষ্ট হলেও তাকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মৌসুমী আক্তার বলেন, অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করা কষ্টের, তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ওদের শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে। দিন দিন তাদের উন্নতি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন শিশুদের মিড ডে মিল অর্থাৎ দুপুরের খাওয়া দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, কাহারোলের রসুলপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ২০১৩ সালে। এ বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতক জায়গা দেন স্থানীয় কৃষ্ণ কান্ত। আর বিদ্যালয়টি পরিচালনা করা হয় স্থানীয় সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল এর প্রতিষ্ঠিত দীপ্ত জীবন ফাউন্ডেশন থেকে। বিদ্যালয়ে মোট ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। আর প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছেন ১৫২ জন। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য