শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০২০ ১৯:৪২

৬২ হাজার ৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

কুড়িগ্রামে সরকারি সহায়তার আশায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা

খন্দকার একরামুল হক সম্রাট, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে সরকারি সহায়তার আশায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা
কয়েক দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি

কুড়িগ্রামে শুক্রবার সকাল থেকে সবকটি নদনদীর পানি আবার কমছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি গত বুধবার থেকে নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী পাড়ের মানুষজন আতঙ্কে বাস করছিলেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি কমে এখন বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আপাতত বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই। 

এদিকে, কয়েক দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ফেলে রেখে এখনও উঁচু বাঁধে রয়েছে বেশকিছু পরিবার। বন্যার পানি দীর্ঘ দেড় মাস যাবত স্থায়ী থাকায় তাদের বাড়িঘর নষ্ট হয়ে গেছে। তারা এখন উঁচু বাঁধে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঘর মেরামত করার কোনো অর্থ না থাকায় তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। 

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি ফসলসহ ঘরবাড়ি ও মৎসজীবীরা। সরকারি সহায়তার আশায় প্রহর গুণছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। অর্থ সংকটে তাদের অনেকেই এখনও নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারেননি। 

ধরলা নদীর পাড়ে উঁচু বাঁধে বাস করা সুমি বেগম জানান, আমাদের ঘরবাড়ি তিন দফা বন্যায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এমনিতে বন্যায় কোনো সাহায্য পাই নাই। পৌরসভা এলাকা হওয়ায় নাকি কোনো ত্রাণ দেয়া হয় না। তারপরও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে খুব কষ্টে আছি। শুনেছি নাকি ডিসি অফিস বা পৌরসভা আমাদের ঘরবাড়ি নষ্টের তালিকা করছে। আমরা কি সাহায্য পাব? একই অবস্থা ধরলা পাড়ের আরও অর্ধশতাধিক পরিবারের। 

সরকারি হিসেবে তিন দফা বন্যায় জেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৬২ হাজার ৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস। কৃষিতে নষ্ট হয়েছে ১১ হাজার ৬২২ হেক্টর জমির সম্পূর্ণ ফসল। 

জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িঘর মেরামতে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সাহায্য দেয়া হবে, যা চলমান। অতি দ্রুত এসব পরিবার এ সহায়তা পাবে। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর