শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:৩০
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:৩৬

চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে আখাউড়ার মাছ

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে আখাউড়ার মাছ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদা মিটিয়ে আখাউড়ার মাছ যাচ্ছে বিদেশেও। পুকুর, খাল, বিল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে বাঁধ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে বছরে ৪৫২১.২০ মেট্রিক টনের উপর মাছ উৎপাদন করছে স্থানীয় মাছ চাষিরা। ফলে বিদেশেও রফতানি করে লাভবান হচ্ছে মৎস্যচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০২.১১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে ছোট বড় পুকুরসহ প্রজেক্ট রয়েছে ২ হাজার ৭৫টি, বিল ১৩টি, নদী ৩টি, খাল ৩টি ও প্লাবণ ভূমি রয়েছে ৮টি। উপজেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে ৩৪৯৮ মেট্রিক টন। আর উৎপাদিত হচ্ছে ৪৫২১.২০ মেট্রিক টন মাছ। উদ্ধৃত থাকছে ১০২৩.২০ মেট্রিক টন।

দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাছ চাষের পরিধি। চাষকৃত মাছের মধ্যে রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙ্গাস, পুটি, কার্প, তেলাপিয়া, বোয়াল, গ্রাসকার্প, শিং, মাগুর, কৈসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। প্রতিদিন ভোর বেলা পৌর শহরের বড় বাজার মাছের আড়তে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ মন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়। ওই জায়গায় পাইকার, ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লেগে থাকে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ওইসব মাছ কেনাবেচা হয় বলে আড়তদাররা জানায়।

রেলপথ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈবর, নরসিংদী, ঢাকা, কুমিল্লা, লাকসাম, ফেনী, চট্টগ্রাম, মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা এসে মাছ ক্রয় করে নিয়ে যায়। দূরের পাইকাররা রাতের মধ্যেই হাজির হন মাছ কেনার জন্য। ব্যবসায়ীরা ট্রেন ও পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশার মাধ্যমে নিয়ে যাচ্ছে নিজ নিজ গন্তব্যে। পাশাপাশি আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়েও ভারতে রফতানি হচ্ছে এখানকার মাছ।

এদিকে, কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় মৎস্য চাষ করে স্থানীয় চাষিরা এক নিরব বিল্পব ঘটিয়েছে। এ উপজেলার শতশত যুবক অর্থনীতি উন্নয়নে মাছ চাষে ভূমিকা রাখছেন।

স্থানীয় একাধিক মৎস্য চাষি জানায়, পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, শান্তিনগর, খড়মপুর দুর্গাপুর, উপজেলার ধাতুর পহেলা, তুলাবাড়ি, কুসুমবাড়ি, টানুয়াপাড়া,হীরাপুর, বাউতলা, উমেদপুর, আজমপুর, মোগড়া, মনিয়ন্দ ধরখারসহ বিভিন্ন এলাকায় যুবকরা পুকুর, বিল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। তাদের মধ্যে কেউ করছেন নিজস্ব পুকুরে, আবার কেউ করছেন বার্ষিক ইজারা আবার কেউ মৎস্য প্রকল্পের নামে সমিতি গঠন করে করছেন এ চাষ। গত দু’মাস ধরে পুরো দমে চলছে চাষকৃত মাছ স্থানীয় আড়তসহ বিভিন্ন স্থানে মাছ বিক্রি।

আড়তদার মো. বাছির খান জানায়, বড় বাজার এলাকায় ১৪ জন আড়তদার রয়েছে। কমপক্ষে দুই শতাধিক পাইকার ও খুচরা বিক্রেতা নিয়মিত মাছ ক্রয় করছেন। দৈনিক ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ মন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়। তাছাড়া এখানকার উৎপাদিত মাছ ভারতেও রফতানি হচ্ছে।

কুমিল্লা থেকে আসা পাইকার মো. হোসেন মিয়া বলেন, প্রতিদিন ভোরে ৫-৬ মন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় করে মিনি ট্রাকে করে নিয়ে যান।

পাইকার মো. মনির বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় দীর্ঘ ৪ বছর ধরে এখান থেকে মাছ নিয়ে বিক্রি করছি। মৎস্য চাষি টিপু চৌধুরী বলেন, ৩টি প্রজেক্ট ৩টি পুকুর বার্ষিক ও অর্ধবাষিক ইজারা নিয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। দৈনিক গড়ে ১০-১২ মন মাছ বিক্রি হয় বলে জানায়। ভালো দামের আশায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি মিনি ট্রাকে করে বিভিন্ন বাজারেও মাছ বিক্রি করা হয়।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বলেন, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষে নিরব বিল্পব ঘটে চলছে। মৎস্য চাষে এলাকার শতশত যুবকদের যেমন বেকারত্ব দূর হয়েছে, পাশাপাশি শতশত লোকের কর্মও সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলায় অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মাছ চাষের আওতায় আনা গেলে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর