শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:১২

বাগেরহাটে বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে হাজারো চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে হাজারো চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে গত দু’দিন ধরে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে প্রায় এক হাজার চিংড়ি ঘের (খামার) ও পুকুরের মাছ।

ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, কচুয়া ও ফকিরহাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। হাজার হাজার বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্না ও খাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

অসময়ে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাওয়া পরিবারগুলো অবর্ণনীয় দুর্দশায় পড়েছে। এদিকে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে মোংলা বন্দরে পণ্য উঠা-নামার কাজও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বাগেরহাটের শরণখোলায় পোস্ট অফিসসহ তিন গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। আঞ্চলিক মহাসড়কের বিশাল অংশ ধসে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। ডুবে আছে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে চিংড়ি খামার ও পুকুরের মাছ। সারাদিনে রান্না হয়নি কয়েক শত পরিবারে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বাসিন্দারা।

বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজারের পূর্বাংশ এবং রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের পশ্চিম পাশ থেকে টিএন্ডটি এলাকা, খাদ্যগুদাম এলাকা, পাঁচরাস্তা ও বান্দাঘাটা এলাকার প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের বাড়ি-ঘরে হাটু পানি জমে রয়েছে। ওই এলাকা অবস্থিত সরকারি পোস্ট অফিসের মধ্যেও পানি উঠে গেছে। এছাড়া রায়েন্দা বাজারের পুরাতন পোস্ট অফিস এলাকা, উত্তর কদমতলা পুরো গ্রাম ও কেজি স্কুল এলাকার আরো প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা সেতুর দক্ষিণ পারের সংযোগ সড়কের দুটি পয়েন্টে ব্যাপক ধস দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় পুরো সড়ক ধসে যানবাহন চলাচল বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে মোড়েলগঞ্জ, রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, কচুয়া ও ফকিরহাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এসব উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ বাগেরহাট শহর, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বাড়ি-ঘর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় জন দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছেনা। বৃষ্টিতে নিম্ন আয়ের মানুষের সব থেকে বেশী ভোগান্তি পড়েছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক জানান, দুই দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও ফকিরহাট উপজেলার কয়েক হাজার চিংড়ি ও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৎস্য বিভাগ মাঠ পর্যায়ে ভেসে যাওয়া চিংড়ি ঘের ও পুকুরের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে চিংড়ি ঘের ও পুকুরের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হবে।

মোংলা বন্দরে হারবার মাস্টার মো. ফকর উদ্দিন বলেন, মোংলা বন্দরে বর্তমানে ইউরিয়া সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল এলপিজি গ্যাসসহ মোট ১১টি পণ্যবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। বৈরি আবহাওয়ায় জাহাজ থেকে পণ্য উঠা-নামার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি বন্ধ হলেই জাহাজে পণ্য উঠানামার কাজ চলবে।
 
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, এই বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজি ও মাঠে থাকা আমন ধানের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে এই বৃষ্টি আরও দুয়েকদিন অব্যাহত থাকলে মাঠে থাকা ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বাগেরহাটে শীতকালীন সবজির মধ্যে টমেটোর আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। এখন পর্যন্ত সাতশ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর