শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:২৮

ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথ জিউর মন্দিরে দুর্গা পূজা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথ জিউর মন্দিরে দুর্গা পূজা

কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দিরের দুর্গা পূজা এবার ১২০ বছরে পা রেখেছে। প্রতি বছর মহাধুমধামে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পরিস্থিতি আলাদা। মহামারী করোনার কারণে এবার আয়োজনের অনেকখানি কাটছাঁট করা হয়েছে। তারপরও দুর্গাৎসব ঘিরে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই। বিকেল থেকে প্রতিমা দর্শনে বেরিয়ে পড়ছেন সনাতন ধর্মের নানা বয়সি মানুষ।

জানা যায়, ১৯০০ সালে যশোরের নলডাঙার রাজা প্রমথ ভূষন দেব রায় কুষ্টিয়ায় শহরের রথখোলায় শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সে বছরই এই মন্দিরে প্রথমবারের মত দুর্গাৎসবের আয়োজন হয়। সেই হিসেবে এবার ১২০ বছরে পা রাখছে এই মন্দিরের দুর্গা পূজা। প্রতি বছর জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান আকর্ষণ থাকে এই মন্দিরের দুর্গাৎসব। এই মন্দিরের জমকালো আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মানুষ। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। মহামারী করোনার কারণে এবার আয়োজনের অনেকখানি কাটছাঁট করা হয়েছে। 

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুন কান্তি চাকী বলেন, এই মন্দিরের দুর্গা পূজা সবার কাছে গোপীনাথ বাড়ির পূজা হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর খুব জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরের শতাব্দী প্রাচীন এই পুজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পরিস্থিতি আলাদা। করোনা মহামারির কারণে এবার আয়োজনের অনেকটায় কাটছাঁট করা হচ্ছে। 

এদিকে, এই মন্দির ছাড়াও শহরের হরিবাসরসহ বেশ কয়েকটি মন্দিরে প্রায় ১০০ বছর ধরে দুর্গা পূজার আয়োজন হয়ে আসছে। হরিবাসর মন্দির কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ বিপ্রজিত বিশ্বাস বলেন, এ মন্দিরের পূজা এবার ৯৭ বছরে পা রাখল। তিনি বলেন, এবার পূজা একটা আলাদা পরিবেশে হচ্ছে। তবুও তাদের মধ্যে উৎসব উদ্দীপনার কমতি নেই। 

পুরোহিত অরুন বাগচী বাপি বলেন, দুর্গা এবার দোলায় চড়ে মর্তে এসেছেন আর তার গমন গজে। সনাতন ধর্ম মতে এর অর্থ হলো মহামারি, দুর্যোগ। তাই এবার মণ্ডপে মণ্ডপে করোনা মুক্তির লক্ষে বিশেষ প্রার্থনা করা হচ্ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জয়দেব কুমার বিশ্বাস এবার জেলায় মোট ২৩৭টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এ উৎসবে সব ধরণের সহযোগিতা করছে বলে জানান পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

BP

আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর